অর্থনীতি চাঙ্গা হলেও মার্কিনদের মনে কাটছে না হতাশা, ভিন্ন পথে অর্থনীতিবিদরা

করোনা মহামারি পরবর্তী ছয় বছর পার হলেও মার্কিন নাগরিকদের মনের অর্থনৈতিক গ্লানি কাটছে না। প্রতি মাসে প্রকাশিত কোনো অর্থনৈতিক প্রতিবেদনই তাদের এই মনোভাব ইতিবাচক করতে পারছে না। মহামারি কাটিয়ে চাকরি ও সামগ্রিক অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ালেও, ভোক্তাদের মনোভাবের (কনজিউমার সেন্টিমেন্ট) কোনো উন্নতি হয়নি। ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানের কনজিউমার সেন্টিমেন্ট ইনডেক্স অনুযায়ী, গত ছয় বছরে এই মনোভাব ওঠানামা করলেও তা মহামারি-পূর্ববর্তী অবস্থায় ফিরতে পারেনি। এমনকি গত সেপ্টেম্বরে দ্য কনফারেন্স বোর্ডের কনজিউমার কনফিডেন্স ইনডেক্সও হ্রাস পেয়েছে।

মানুষের এই মানসিক নেতিবাচকতার সাথে তাদের বাস্তব কেনাকাটা ও অর্থনৈতিক শক্তির যে অমিল, তা মহামারি-পরবর্তী এক অনন্য পরিস্থিতি তৈরি করেছে, যার সঠিক ব্যাখ্যা অর্থনীতিবিদদের কাছেও নেই। সাধারণত ভোক্তাদের মনোভাবকে অর্থনীতির গতিপথ বোঝার একটি নির্ভরযোগ্য সূচক হিসেবে ধরা হতো। কারণ ভোক্তারা আশাবাদী হলে বেশি খরচ করবেন এবং হতাশ হলে খরচ কমিয়ে দেবেন—এটাই ছিল স্বাভাবিক নিয়ম। উল্লেখ্য, মার্কিন অর্থনীতির প্রায় ৭০ শতাংশই নির্ভর করে ভোক্তা ব্যয়ের ওপর। তবে বর্তমানে এই অমিল দেখে অর্থনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারকেরা এই সূচকের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দিচ্ছেন।

শিকাগো ফেডারেল রিজার্ভের প্রেসিডেন্ট অস্টান গুলসবি এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের বলেন, "শিকাগো ফেডের দৃষ্টিকোণ থেকে আমরা ভোক্তা মনোভাবের ওপর নজর রাখতাম একটি সুনির্দিষ্ট কারণে—তা হলো এটি ভোক্তা ব্যয়ের একটি ভালো নির্দেশক ছিল। কিন্তু গত ছয় বছরে এটি ভোক্তা ব্যয়ের পূর্বাভাস দেওয়ার ক্ষেত্রে অনেক কম কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।" তিনি জানান, যখন ভোক্তা মনোভাবের মতো বিষয়গুলো তাদের ঐতিহাসিক ভূমিকা থেকে বিচ্যুত হয়, তখন শিকাগো ফেডের অর্থনীতিবিদরা পূর্বাভাস দেওয়ার জন্য মুদ্রাস্ফীতি, ব্যয়, নিয়োগ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মতো বস্তুনিষ্ঠ ও পরিমাপযোগ্য পরিসংখ্যানের ওপর বেশি নির্ভর করেন।

বাস্তব অর্থনৈতিক চিত্র অবশ্য অন্য কথা বলছে। জুলাইয়ের তুলনায় আগস্টে মার্কিন নাগরিকদের কেনাকাটা বা ব্যয় বেড়েছে ০.৯ শতাংশ। আর এটি কেবল নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্যের কারণে ঘটেনি; মুদ্রাস্ফীতি সমন্বয় করার পরও ব্যয়ের পরিমাণ বেড়েছে ০.৬ শতাংশ, যা ২০২৫ সালের মার্চের পর সর্বোচ্চ মাসিক বৃদ্ধি। ব্যাংক অব আমেরিকা গত মাসে তাদের গ্রাহকদের কার্ড ব্যবহারের তথ্য বিশ্লেষণ করে জানিয়েছে, মার্কিন নাগরিকরা তাদের নিজেদের ইচ্ছেতেই পণ্য ও সেবার পেছনে অতিরিক্ত খরচ করছেন, কোনো বাধ্যবাধকতা থেকে নয়।

এদিকে শ্রম বিভাগের সেপ্টেম্বর মাসের কর্মসংস্থান প্রতিবেদনে দেখা গেছে, নতুন নিয়োগের গতি কিছুটা শ্লথ হয়েছে এবং মজুরি বৃদ্ধির হার মুদ্রাস্ফীতির সাথে তাল মেলাতে পারেনি। তবে অর্থনীতিবিদরা একে ছাঁটাইয়ের লক্ষণ হিসেবে দেখছেন না, বরং একে 'কম নিয়োগ, কম ছাঁটাই' পরিস্থিতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। মাহনি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের প্রধান নির্বাহী কেন মাহনি বলেন, "প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন করে কর্মী নিচ্ছে না ঠিকই, তবে কর্মী ছাঁটাইও করছে না। অনেক প্রতিষ্ঠান আগেই তাদের কর্মী সংখ্যা সমন্বয় করেছে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) হয়তো নতুন নিয়োগের গতি কিছুটা কমিয়ে দিয়েছে। তবে এটি কোনো ছাঁটাইয়ের ঢেউ নয়।" তিনি উল্লেখ করেন, এই প্রতিবেদনের আগে ১২ মাসের গড় কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ছিল মাসে মাত্র ৪৫,০০০, ফলে সেপ্টেম্বরের চিত্রটি ধীরগতির ধারাকেই নির্দেশ করে, অর্থনীতির পতনকে নয়।

ভোক্তা মনোভাব এখন ফেডের সিদ্ধান্ত ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে কম কার্যকর হলেও, গবেষকরা মনে করছেন এই তথ্যের গভীরে প্রবেশ করা দরকার। জরিপগুলোতে সাধারণত সব মতামতের মধ্যক বা 'মিডিয়ান' প্রকাশ করা হয়, তবে মূল চিত্রটি লুকিয়ে থাকতে পারে এর বিস্তৃতি বা 'ডিস্ট্রিবিউশন'-এর মধ্যে। এর মাধ্যমে জানা সম্ভব কোনো নির্দিষ্ট ছোট গোষ্ঠী সামগ্রিক ব্যয়ের বড় অংশ করছে কি না। গুলসবি সতর্ক করে বলেন, "যদি এমন পরিস্থিতি তৈরি হয় যেখানে ৯০ শতাংশ খরচ মাত্র ১০ শতাংশ মানুষ করছে, তবে আমাদের ভাবতে হবে সামগ্রিক জিডিপি প্রবৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানে এর প্রভাব কী হবে।"

ভোক্তা মনোভাব জরিপের অন্যান্য উপ-বিভাগ, যেমন মুদ্রাস্ফীতি সংক্রান্ত প্রত্যাশার বিষয়েও গুলসবি আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, এই তথ্যের মধ্যে কিছু প্রত্যাশার পরিমাপ রয়েছে যা হয়তো ব্যবসার চক্র বুঝতে সাধারণ মনোভাবের চেয়ে বেশি কার্যকর। ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েল দীর্ঘমেয়াদী মুদ্রাস্ফীতির প্রত্যাশাকে একটি নির্দিষ্ট সীমায় ধরে রাখার ওপর জোর দিতেন। গুলসবি অবশ্য ট্রেজারি ইল্ডের মতো আর্থিক বাজারভিত্তিক সূচকগুলোকে বেশি পছন্দ করেন, তবে অনেক অর্থনীতিবিদ মনে করেন জরিপভিত্তিক প্রত্যাশাই বেশি কার্যকর। এ বিষয়ে আরও গবেষণার আহ্বান জানিয়ে গুলসবি বলেন, "আমাকে জানান এটি আসলেই একটি ভালো পরিমাপ কি না।"

শিরোনাম :
‘ওরা কেন সেরা, তা কোনো বিস্ময় নয়’: ওতাহানি ও ট্রাউটকে নিয়ে কাইল টাইলার পার্থ স্করচার্সে যোগ দিলেন পাকিস্তানের অধিনায়ক ফাতিমা সানা নেশনস লিগের শেষ ম্যাচে নিষিদ্ধ কেভিন ডি ব্রুইন অর্থনীতি চাঙ্গা হলেও মার্কিনদের মনে কাটছে না হতাশা, ভিন্ন পথে অর্থনীতিবিদরা সব কিছুতে ‘গার্ল’ তকমা কেন? শৈশব ও লিঙ্গভেদের প্রবণতা নিয়ে প্রশ্ন অক্টোবরফেস্টে নারীদের ‘আপস্কার্টিং’ ঠেকাতে দেওয়া হচ্ছে ফ্রি শর্টস বাংলাদেশকে হারিয়ে এশিয়ান গেমসে ব্রোঞ্জ জিতল শ্রীলঙ্কা কানসাসে আসন রক্ষায় রিপাবলিকানদের কোটি কোটি ডলার বরাদ্দ, নর্থ ক্যারোলাইনায় তহবিল হ্রাস ‘প্রতিরক্ষা শিল্পে সম্পূর্ণ বিপ্লব ঘটাচ্ছে তুরস্ক’: এরদোয়ান নিরাপত্তা হুমকি উপেক্ষা করা হয়েছে, অভিযোগ নাইজেল ফারাজের উপনেতার ‘ওরা কেন সেরা, তা কোনো বিস্ময় নয়’: ওতাহানি ও ট্রাউটকে নিয়ে কাইল টাইলার পার্থ স্করচার্সে যোগ দিলেন পাকিস্তানের অধিনায়ক ফাতিমা সানা নেশনস লিগের শেষ ম্যাচে নিষিদ্ধ কেভিন ডি ব্রুইন অর্থনীতি চাঙ্গা হলেও মার্কিনদের মনে কাটছে না হতাশা, ভিন্ন পথে অর্থনীতিবিদরা সব কিছুতে ‘গার্ল’ তকমা কেন? শৈশব ও লিঙ্গভেদের প্রবণতা নিয়ে প্রশ্ন অক্টোবরফেস্টে নারীদের ‘আপস্কার্টিং’ ঠেকাতে দেওয়া হচ্ছে ফ্রি শর্টস বাংলাদেশকে হারিয়ে এশিয়ান গেমসে ব্রোঞ্জ জিতল শ্রীলঙ্কা কানসাসে আসন রক্ষায় রিপাবলিকানদের কোটি কোটি ডলার বরাদ্দ, নর্থ ক্যারোলাইনায় তহবিল হ্রাস ‘প্রতিরক্ষা শিল্পে সম্পূর্ণ বিপ্লব ঘটাচ্ছে তুরস্ক’: এরদোয়ান নিরাপত্তা হুমকি উপেক্ষা করা হয়েছে, অভিযোগ নাইজেল ফারাজের উপনেতার