অধিকৃত পশ্চিম তীরে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক আগ্রাসন চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। এই পরিকল্পনার আওতায় ফিলিস্তিনিদের আরও বেশ কিছু শরণার্থী ক্যাম্প দখল করার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম 'ওয়ালা' রোববার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, দেশটির নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের ধারণা, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই পশ্চিম তীরের উত্তরাঞ্চলে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করার জন্য চাপ প্রয়োগ করতে পারেন। অবৈধ ইসরায়েলি বসতি এবং আউটপোস্টের বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে বাড়তে থাকা উত্তেজনাকে এই পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন কর্মকর্তারা।
এর আগে ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে পশ্চিম তীরের উত্তরাঞ্চলে ব্যাপক সামরিক অভিযান চালিয়েছিল ইসরায়েল। সে সময় জেনিন, তুলকারেম এবং নূর শামস শরণার্থী ক্যাম্পগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় তাদের বাহিনী। জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ-এর তথ্য অনুযায়ী, সেই সামরিক হামলার ফলে প্রায় ৩২ হাজার ফিলিস্তিনি তাদের ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই পুরো পশ্চিম তীর জুড়ে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান এবং অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের হামলা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, ১৯৬৭ সাল থেকে ইসরায়েলের দখলে থাকা পশ্চিম তীর ফিলিস্তিনের ভূখণ্ডের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচিত। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, কোনো দখলদার শক্তির নিজস্ব জনসংখ্যাকে দখলকৃত ভূখণ্ডে স্থানান্তর করা অবৈধ। তা সত্ত্বেও, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অধিকৃত পশ্চিম তীরে বিদ্যমান বসতিগুলোর সম্প্রসারণ এবং নতুন বসতি নির্মাণের গতি বাড়িয়েছে ইসরায়েল।

