কসোভোর আইনপ্রণেতারা রবিবার প্রধানমন্ত্রী আলবিন কুর্তির নেতৃত্বে নতুন সরকারকে অনুমোদন দিয়েছেন। গত জুন মাসে অনুষ্ঠিত আগাম নির্বাচনের পর এই ছোট বলকান দেশটিতে চলমান দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক সংকট নিরসনের লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ১২০ সদস্যের পার্লামেন্টে কুর্তির সরকার ৬২ জন আইনপ্রণেতার সমর্থন পায়। তবে বিরোধী দলের সদস্যরা এই অধিবেশন বয়কট করেছেন এবং কুর্তির বিরুদ্ধে নির্বাচন-পরবর্তী প্রক্রিয়া লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছেন।
কসোভোর প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্যের জেরে গত ১৮ মাসেরও বেশি সময় ধরে দেশটিতে অচলাবস্থা চলছে। দুটি আগাম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও এই সমস্যার কোনো স্থায়ী সমাধান মেলেনি। পার্লামেন্টে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনেও ব্যর্থ হয়েছেন আইনপ্রণেতারা। বিরোধী দলগুলো দাবি জানিয়েছিল যে, নতুন সরকার গঠনের আগে যেন ডেপুটি স্পিকারদের নির্বাচন করা হয়।
দেশটিতে চলমান এই সংকটের সূত্রপাত হয় ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর, যখন কোনো দলই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন পায়নি। এরপর ডিসেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কুর্তি সরকার গঠন করলেও প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য গড়ে ওঠেনি। কসোভোর সংবিধানে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য পার্লামেন্টে অন্তত ৮০ জন আইনপ্রণেতার উপস্থিতিতে কোরাম পূর্ণ হওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে, যা কুর্তির পক্ষে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
জুন মাসের নির্বাচনে কুর্তির কেন্দ্র-বামপন্থী দল 'ভেতেভেন্দোসে' পুনরায় সবচেয়ে বেশি ভোট পেলেও আগের তুলনায় তাদের জনসমর্থন কিছুটা কমেছে। ভোটারদের মধ্যে এক ধরনের হতাশা ও ক্ষোভ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিরোধী দলগুলো জানিয়েছে, তারা নির্বাচন-পরবর্তী কথিত অসংগতিগুলো নিয়ে সাংবিধানিক আদালতের দ্বারস্থ হবে। এই রাজনৈতিক সংকট দীর্ঘায়িত হলে কসোভোকে আবারও আগাম নির্বাচনের দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ইউরোপের অন্যতম নবীন ও দরিদ্র রাষ্ট্র কসোভো ২০০৮ সালে সার্বিয়া থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করে। ১৯৯৮-৯৯ সালের যুদ্ধের পর ন্যাটোর হস্তক্ষেপে সার্বিয়া সেনা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হলে এই জাতিগত আলবেনীয় প্রধান দেশটি স্বাধীন হয়।

