ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন যে, যুদ্ধ বন্ধ এবং হরমোজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে প্রস্তাব বিনিময় করেছে। তুর্কমেনিস্তানে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্যে আয়োজিত এক বৈঠকে তিনি এই তথ্য জানান। বৃহস্পতিবার কমনওয়েলথ অব ইন্ডিপেন্ডেন্ট স্টেটস (সিআইএস) নেতাদের শীর্ষ সম্মেলন এবং কাস্পিয়ান সাগর বিষয়ক পরিবেশগত সম্মেলনের ফাঁকে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে দুই নেতা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন এবং জ্বালানি, কৃষি, পরিবহন ও বাণিজ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা করেন। তারা যৌথ প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুত শেষ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং উভয় দেশের জাতীয় স্বার্থ ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য সমন্বিত সহযোগিতা বিস্তারে প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
ইরানি স্টুডেন্টস নিউজ এজেন্সির (আইএসএনএ) তথ্য অনুযায়ী, পেজেশকিয়ান স্পষ্ট করেছেন যে যুদ্ধ চলমান থাকা সত্ত্বেও ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার পথ থেকে সরে আসবে না। তিনি বলেন, আমরা আলোচনার টেবিলে আছি, কিন্তু প্রতিবার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কথা বলার সময়ই তারা নতুন করে হামলা চালায়। তবুও আমরা আলোচনা বা সংলাপের পথ পরিহার করব না।
তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে প্রস্তাব বিনিময় প্রসঙ্গে পেজেশকিয়ান জানান, ইরান নিজস্ব প্রস্তাব জমা দিয়েছে এবং ওয়াশিংটনও নতুন প্রস্তাব পেশ করেছে। তিনি বলেন, আমরা প্রস্তাবগুলোর ওপর সংশোধনী এনেছি। বর্তমানে বিদ্যমান মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনার টেবিলে বসে বিষয়গুলো চূড়ান্ত করার কথা রয়েছে।
আঞ্চলিক ইস্যু এবং জাতিসংঘে রাশিয়ার অবস্থানের জন্য পুতিনকে ধন্যবাদ জানান পেজেশকিয়ান। তিনি উল্লেখ করেন যে, মস্কো একপাক্ষিকতা মোকাবিলায় সহায়তা করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে তেহরান ও মস্কোর মধ্যে ক্রমবর্ধমান সমন্বয় দ্রুত ও শক্তিশালী গতিতে এগিয়ে যাবে এবং বর্তমান পরিস্থিতি এই সহযোগিতাকে আরও গভীর করার সুযোগ তৈরি করেছে। তিনি আরও বলেন, ইরান চায় যুদ্ধের অবসান হোক এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ইরানের জনগণের অধিকার রক্ষিত হোক।
এর আগে ১ সেপ্টেম্বর কিরগিজস্তানে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে এই দুই নেতা সরাসরি সাক্ষাৎ করেছিলেন। বুধবার পেজেশকিয়ান ও পুতিনের মধ্যে ফোনে আলাপ হয়, যেখানে রুশ প্রেসিডেন্ট ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার বিষয়ে মস্কোর পক্ষ থেকে কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় সমর্থনের কথা জানান।
পুতিন বৃহস্পতিবার দুই দিনের সফরে তুর্কমেনিস্তানে পৌঁছান। সিআইএস শীর্ষ সম্মেলনে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক উন্নয়নমূলক বিষয়গুলো পর্যালোচনার কথা রয়েছে। এছাড়া কাস্পিয়ান সম্মেলনে আজারবাইজান, ইরান, কাজাখস্তান, রাশিয়া ও তুর্কমেনিস্তানের নেতারা অংশ নিচ্ছেন, যেখানে কাস্পিয়ান সাগর অঞ্চলের পরিবেশগত সহযোগিতার বিষয়টি আলোচনার এজেন্ডায় রয়েছে।

