মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স পেন্টাগনের ফোর্ট হুড হামলাকারী নিডাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, এই পরিকল্পনা অনুযায়ী আদৌ কিছু ঘটবে কি না তা নিয়ে তার যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। ভ্যান্স স্পষ্ট করে বলেন, যদি এটি সরাসরি সম্প্রচার করাও হয়, তবে তিনি তা দেখবেন না।
২০০৯ সালে সাবেক মার্কিন আর্মি মেজর নিডাল হাসান ফোর্ট হুডে ১৩ জন নিরস্ত্র সেনাকে গুলি করে হত্যা করেন এবং আরও ৩২ জনকে আহত করেন। ভ্যান্স এই ঘটনাকে ৯/১১ হামলার পর মার্কিন মাটিতে হওয়া সবচেয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা বলে অভিহিত করেছেন। তিনি আরও বলেন, হাসান সেই সেনাদের চিকিৎসার দায়িত্বে ছিলেন, কিন্তু তিনি তাদের সবচেয়ে অরক্ষিত অবস্থায় নিজ আবাসস্থলে গুলি করে হত্যা করেন।
পেন্টাগন এই সপ্তাহে ঘোষণা করেছিল যে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রথমবারের মতো সামরিক মৃত্যুদণ্ড হিসেবে হাসানকে ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে। এরপর বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানান, এই মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। হেগসেথ দাবি করেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের গুরুতর পরিণতি সম্পর্কে মানুষের ধারণা থাকা প্রয়োজন।
তবে এই লাইভস্ট্রিমিংয়ের সিদ্ধান্তটি ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয় দলের আইনপ্রণেতাদের কাছ থেকে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। রিপাবলিকান সিনেটর জন কার্টিস সতর্ক করে বলেছেন, প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা সভ্যতাকে কলুষিত করে এবং এটি বিনোদনের খোরাকে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে। তিনি হেগসেথকে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন। ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস মারফি সিএনএনকে বলেছেন, এই ধারণাটি অত্যন্ত জঘন্য এবং এটি ইসলামিক স্টেট গ্রুপের কর্মকাণ্ডের কথা মনে করিয়ে দেয়।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাথলিক বিশপদের সম্মেলন এই সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়ে গভীর শোক ও বিস্ময় প্রকাশ করেছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয়ও এএফপিকে জানিয়েছে, সরাসরি সম্প্রচার করা হলে তা জনসমক্ষে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের শামিল হবে এবং এটি নির্যাতনের বিরুদ্ধে যে কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তার লঙ্ঘন ঘটাবে।

