আমি রাত ১২:৪৫-এ ঘুম থেকে জেগে উঠি যখন আমার কলেজ পড়ুয়া মেয়ে আমাকে ফ্রাটার্নিটি হাউস থেকে টেক্সট পাঠায়। কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ফ্রাটার্নিটি হাউসে সংঘটিত একটি কথিত গণধর্ষণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভুক্তভোগী নারী আইনি নথিতে ‘জেন ডো’ হিসেবে পরিচিত। এই ২০ বছর বয়সী তরুণী বন্ধুদের সাথে মদ্যপান শুরু করেছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত একটি ফ্রাটার্নিটি হাউসে গিয়ে পৌঁছান, যেখানে তিনি মাদক সেবনে বাধ্য হয়ে গণধর্ষণের শিকার হন বলে অভিযোগ করেছেন। বর্তমানে এই মামলাটি নিয়ে সারা দেশে তুমুল আলোচনা চলছে। ভুক্তভোগীর নাম প্রকাশ না করার বিষয়টিই এই মামলার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকের মতে, এই পরিচয় গোপন রাখা তাকে বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের অপব্যবহারের মামলার মতো জনসমক্ষে শিকার হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করেছে। যেমন, ভার্জিনিয়া জিউফ্রে রবার্টস যখন প্রিন্স অ্যান্ড্রুর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন, তখন তাকে নানাভাবে হেয় করা হয়েছিল, যদিও তার বয়স তখন ছিল মাত্র ১৭ বছর।
এই মামলার জেরে সোশ্যাল মিডিয়ায় #IamJaneDoe হ্যাশট্যাগটি একটি শক্তিশালী আন্দোলনে পরিণত হয়েছে, যা টিকটকে ৬৫ মিলিয়নেরও বেশিবার দেখা হয়েছে। ভুক্তভোগীরা এই হ্যাশট্যাগের মাধ্যমে জানাতে চেয়েছেন যে তারা একা নন। ২১ বছর বয়সী কলেজ শিক্ষার্থী র্যাচেল স্যান্ডার্স এই আন্দোলনের অংশ হিসেবে নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে হ্যাশট্যাগটি ব্যবহার করে বলেন, “আমরা সবাই জেন ডো, তার প্রকৃত পরিচয় জানার প্রয়োজন নেই।”
তবে এই সংহতি সব জায়গা থেকে ইতিবাচক সাড়া পায়নি। ডানপন্থী ভাষ্যকার মেগিন কেলি তার পডকাস্ট ‘দ্য মেগিন কেলি শো’-তে ৫ অক্টোবর অভিযুক্ত ভুক্তভোগী সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন। হান্টার নামে এক ভুক্তভোগী ১ অক্টোবর নিজের একটি ভিডিও পোস্ট করেন, যেখানে তিনি জানান, ২১ বছর বয়সে তিনি নিজের বাড়িতেই ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন এবং ৪২ বছর বয়সে কর্মক্ষেত্রে যৌন নির্যাতনের শিকার হন। তার সেই ভিডিওটি ৪ লক্ষ (৪০০০০০) মানুষ দেখেছেন এবং ১১ জন ভুক্তভোগী তার সাথে যোগাযোগ করেছেন। হান্টার মনে করেন, #MeToo আন্দোলনের পর এবার মানুষ যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে আরও বেশি সোচ্চার হয়েছে।
জেন ডো-এর গোপনীয়তা রক্ষা করা এখন তার গল্পের প্রতি সম্মান জানানোর একটি মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা অন্যান্য অনেক ভুক্তভোগীকে তাদের নিজেদের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা বলার সাহস দিচ্ছে।
