পরিবারের সদস্যদের সেবার ক্ষেত্রে বড় মেয়েদের ওপর যে বাড়তি মানসিক ও শারীরিক দায়িত্ব বর্তায়, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ৪৩ বছর বয়সী জেনেভিয়েভ লোবোস জানান, তিনি তার ছোট ভাইয়ের তুলনায় সবসময়ই বেশি দায়িত্বশীল ছিলেন। ২০২২ সালে তার মায়ের ক্যান্সার ফিরে এলে স্বাভাবিকভাবেই সেবার সবটুকু দায়িত্ব তার কাঁধেই পড়ে। লোবোস এখন ভাবছেন, এটি কি তার সহজাত প্রবৃত্তি ছিল, নাকি বড় মেয়ে হওয়ার কারণে এই বোঝা তাকেই বহন করতে হয়েছে। তিনি মনে করেন, এটি অনেকটা পরিস্থিতিগত বাধ্যবাধকতা ছিল। লোবোসের মতো আরও অনেক বড় মেয়েই একই বাস্তবতার মুখোমুখি হন।
বিশেষজ্ঞরা একে 'ডটার ট্যাক্স' বা কন্যার কর হিসেবে অভিহিত করছেন। ওয়াটারলিলি নামক একটি এআই-চালিত আর্থিক পরিকল্পনা প্ল্যাটফর্মের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা প্রায় দ্বিগুণ হারে পরিবারের সদস্যদের সরাসরি সেবার দায়িত্ব পালন করেন। বে অ্যালার্ম মেডিকেল কর্তৃক ১,০০০ জন প্রাপ্তবয়স্ক কেয়ারগিভারের ওপর পরিচালিত এক জরিপ অনুযায়ী, প্রায় অর্ধেক কেয়ারগিভারই তাদের ভাই-বোনদের ওপর সেবার অসম বণ্টনের কারণে ক্ষোভ অনুভব করেন। এই গবেষণায় দেখা গেছে, শারীরিক এবং আবেগীয়—উভয় ধরনের সেবার বড় অংশই মেয়েরা বহন করেন।
অ্যালিক্স নামক একটি এস্টেট সেটেলমেন্ট সার্ভিসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও আলেকজান্দ্রা মাইসুর বলেন, নারীদের মধ্যে সেবা ও যত্ন নেওয়ার এক বিশেষ ক্ষমতা রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে নারীরা প্রিয়জনের চাহিদা আগে থেকেই বুঝতে পারেন। মাইসুরের মতে, অনেক নারীই মনে করেন এটি তাদের শেষ ভালোবাসা প্রকাশের একটি মাধ্যম। তিনি আরও জানান, অভিভাবকের মৃত্যুর পর শেষকৃত্যের আয়োজন থেকে শুরু করে ব্যাংকিং ও আইনি জটিলতা মেটানোর কাজগুলোও সাধারণত মেয়েরাই করে থাকেন। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, পরিবারের বড় মেয়েই এই দীর্ঘস্থায়ী দায়িত্বগুলো পালন করছেন।
লোবোসের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাও একই রকম। তার মা ২০১০ সালে প্রথম ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। বহু বছর সুস্থ থাকার পর ২০২২ সালে ক্যান্সার ফিরে এলে তার মা আর কেমোথেরাপি নেওয়ার মতো অবস্থায় ছিলেন না। যদিও লোবোসের ভাই ও তার স্ত্রী মায়ের সাথে থাকতেন, তবুও লোবোসকেই সরাসরি সেবার মূল দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে। মায়ের চিকিৎসার ক্ষেত্রে কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে শুরু করে মৃত্যুর পর আর্থিক ও আইনি বিষয়গুলো সামলানো—সবই তাকে করতে হয়েছে। তিনি জানান, এসব কাজ না করলে তার মনে গভীর অপরাধবোধ কাজ করত।
আর্লো নামক এআই-চালিত কেয়ারগিভার অ্যাপের জেরোন্টোলজিস্ট এপ্রিল ইবারা একে 'কেয়ারগিভার ক্রিপ' বা সেবার বোঝা ক্রমশ বেড়ে যাওয়া বলে অভিহিত করেছেন। এটি সাধারণত ছোটখাটো কাজ দিয়ে শুরু হয়, যেমন বাজারের তালিকা করা বা ওষুধ আনা, যা পরে নিয়মিত ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টমেন্টে নিয়ে যাওয়া পর্যন্ত গড়ায়। ইবারার মতে, অধিকাংশ পরিবারেই বড় মেয়েই সেবার প্রধান ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত হন। একবার এই ভূমিকা শুরু হলে তা ধীরে ধীরে পুরো পরিবারের সেবার ভার সেই ব্যক্তির ওপর চাপিয়ে দেয়, বিশেষ করে যদি পরিবারের অন্য সদস্যরা সাহায্য করতে এগিয়ে না আসে। ইবারা পরামর্শ দেন, সব দায়িত্ব একা না নিয়ে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সাথে যোগাযোগ রাখা এবং আগে থেকে পরিকল্পনা করা জরুরি।
