অনেকেই জীবনে অন্তত একবার ভাবেন, একটি বই লিখলে কেমন হতো? মেমোরি, ক্রাইম থ্রিলার বা রোমান্টিক উপন্যাস লেখা একটি বড় অর্জন। এটি ম্যারাথন দৌড়ানোর মতো ধৈর্য, সংকল্প এবং দীর্ঘ পরিশ্রমের দাবি রাখে। তবে থ্রিফটবুকস (ThriftBooks)-এর ২০২১ সালের এক জরিপ অনুযায়ী, অর্ধেকের বেশি মানুষের কাছে উপন্যাসের ভালো আইডিয়া থাকলেও মাত্র ১৫ শতাংশ লেখা শুরু করতে পারেন এবং মাত্র ৮ শতাংশ তা শেষ করতে সক্ষম হন।
বেস্টসেলিং লেখক এবং ‘১০০০ ওয়ার্ডস অফ সামার’ প্রজেক্টের প্রতিষ্ঠাতা জেমি অ্যাটেনবার্গের মতে, মানুষ বিভিন্ন কারণে লিখতে চায়। কারো কাছে এটি শৈল্পিক প্রকাশের মাধ্যম, আবার কেউ নিজের ভেতরের গল্প প্রকাশ করে মানসিক প্রশান্তি পান। উপন্যাসিক মারিতা গোল্ডেন, যিনি ‘জোরা নিল হার্সটন/রিচার্ড রাইট ফাউন্ডেশন’-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা, মনে করেন বই লেখা কল্পনাশক্তি ও আত্ম-নিশ্চিতকরণের এক শক্তিশালী মাধ্যম। এটি একই সাথে ভীতিজনক এবং আকর্ষণীয় এক ব্যক্তিগত চ্যালেঞ্জ।
বই লিখতে গিয়ে অনেক লেখকই মাঝপথে থেমে যান। লেখক ক্রিস্টোফার মুরের মতে, যারা আগে কখনো বই লেখেননি, তাদের জন্য এটি কঠিন। অনেক ক্ষেত্রে নিজের নেতিবাচক ধারণা বা সমালোচনা পাওয়ার ভয় লেখকদের থামিয়ে দেয়। এছাড়া জীবনের ব্যস্ততাও বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
লেখার প্রক্রিয়া সহজ করতে বিশেষজ্ঞরা কিছু পরামর্শ দিয়েছেন। প্রথমত, প্রচুর পড়তে হবে। পড়ার মাধ্যমেই লেখক তার পছন্দের ধারা, শৈলী এবং প্রভাব সম্পর্কে ধারণা পান। অ্যাটেনবার্গের প্রতিদিনের কাজের শুরুই হয় অন্যের লেখা পড়ে। দ্বিতীয়ত, কেন লিখতে চান তা স্পষ্ট করুন। মুরের মতে, লেখার উদ্দেশ্য ঠিক রাখা জরুরি। তৃতীয়ত, গবেষণা করুন। মুরের মতে, গবেষণা মানে কেবল তথ্য খোঁজা নয়, বরং সেই বিষয়ে আগে কী লেখা হয়েছে তা জেনে চরিত্র তৈরি করা।
শুরু করার জন্য একটি নির্দিষ্ট তারিখ নির্ধারণ করুন। অনেক সময় প্রস্তুতির নামে সময় নষ্ট হয়, তাই একটি তারিখ ঠিক করে সেই দিন থেকেই লেখা শুরু করা উচিত। এছাড়া সৃজনশীল লেখালেখির ক্লাস করা নতুন লেখকদের জন্য সহায়ক হতে পারে। নিজের উদ্দেশ্য মনে করিয়ে দিতে নিজেকে একটি চিঠি লিখতে পারেন, যেখানে লেখা থাকবে কেন এই বইটি শেষ করা আপনার জন্য জরুরি।
লেখার সময় ধারাবাহিকভাবে লিখতে হবে এমন কোনো কথা নেই। কোনো একটি দৃশ্য দিয়ে শুরু করা যেতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, প্রথম খসড়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত সম্পাদনা বা রিরাইট করবেন না। মারিতা গোল্ডেন এবং ক্রিস্টোফার মুরের মতে, উচ্চ প্রত্যাশা অনেক সময় লেখকদের বাধাগ্রস্ত করে। তাই আগে পুরো পাণ্ডুলিপি শেষ করুন, এরপর তা পরিমার্জন ও পরিশীলিত করার সুযোগ থাকবেই।

