ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পুনর্নির্বাচনের পক্ষে নিজের সমর্থন ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প তাকে একজন 'গ্রেট ওয়ারিয়র প্রাইম মিনিস্টার' বা মহান যোদ্ধা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আখ্যায়িত করেন। একইসঙ্গে তিনি নেতানিয়াহুকে ইরানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে শান্তির জন্য একজন বড় অংশীদার হিসেবেও উল্লেখ করেছেন।
ট্রাম্প তার পোস্টে লিখেছেন, 'বিবির (নেতানিয়াহু) বিরুদ্ধে ইসরায়েলের ভেতর থেকেই অনেক বিরোধিতা থাকা সত্ত্বেও তিনি শক্তিশালী, সাহসী এবং মেধাবী। সব বাধা সত্ত্বেও তিনি টিকে আছেন এবং প্রকৃতপক্ষে উন্নতি করেছেন।' ট্রাম্পের এই সমর্থন নেতানিয়াহুর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ইসরায়েলে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ব্যাপক। যদিও মধ্যপ্রাচ্যের কৌশল নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে মার্কিন এই নেতা গত কয়েক মাস এই সমর্থন প্রদান থেকে বিরত ছিলেন।
নেতানিয়াহু সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সে (সাবেক টুইটার) ট্রাম্পের এই সমর্থনের জন্য তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন এবং তাদের যৌথ কাজের প্রশংসা করেছেন। তিনি লিখেছেন, 'আমরা একসাথে মিশনটি সম্পন্ন করব।' নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি এই বার্তার সাথে ৩৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে দুই নেতার একসাথে কাটানো বিভিন্ন মুহূর্ত ও ট্রাম্পের প্রশংসা ফুটে উঠেছে।
ইরানের বিষয়ে ট্রাম্প পুনরায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তারা যদি দ্রুত নিজেদের পথ পরিবর্তন না করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, নেতানিয়াহু নির্বাচনে হেরে গেলে তিনি হয়তো এই কাজে আগ্রহী হবেন না। ট্রাম্পের ভাষায়, 'যদি ইসরায়েলের ভুল নেতা থাকে, অর্থাৎ বিবির চেয়ে অন্য কেউ, তবে আমেরিকাকেই এই কাজ করতে হবে, আর আমি তা করতে আগ্রহী নই।'
২০২৫ সালে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় যৌথ অভিযানের পর থেকে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু বেশ ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে কাজ করছেন। তবে চলতি বছর ইরানের সাথে প্রায় আট মাস ধরে চলা যুদ্ধের সময় তাদের মধ্যে কিছু বিষয়ে মতবিরোধ দেখা দেয়। ২০২৩ সালের হামাস আক্রমণের পর আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে পরবর্তী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

