গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর চালানো যুদ্ধের শুরুর দিকে ধ্বংস হওয়া বাড়িঘরের ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা ৭৫ জন ফিলিস্তিনির মরদেহ রবিবার দাফন করা হয়েছে। এই মর্মান্তিক শেষকৃত্যে শত শত ফিলিস্তিনি অংশ নেন। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুরাও রয়েছেন।
গাজার দারাজ স্পোর্টস ক্লাবের বাইরে জানাজা শেষে মরদেহগুলো শেখ রাদওয়ান কবরস্থানে দাফন করা হয়। এর আগে শনিবার সন্ধ্যায় ফিলিস্তিনি পতাকায় মোড়ানো দেহাবশেষগুলো ওই স্থানে রাখা হয়েছিল, যাতে স্বজনরা তাদের শেষ বিদায় জানাতে পারেন।
গাজার সিভিল ডিফেন্সের জনসংযোগ ও মিডিয়া পরিচালক আবদুল্লাহ আল-মাজদালাউই আনাদোলু সংস্থাকে জানিয়েছেন, উত্তর-পূর্ব গাজার দারাজ এলাকার বিভিন্ন ধ্বংসপ্রাপ্ত বাড়ি থেকে গত কয়েক সপ্তাহে এসব দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, যুদ্ধের শুরুর দিকে যখন বাসিন্দারা ভেতরে ছিলেন, তখন ভবনগুলোতে বোমা হামলা চালানো হয়। ভুক্তভোগীরা প্রায় ২০টি ফিলিস্তিনি পরিবারের সদস্য, যাদের মধ্যে বাস্তুচ্যুত মানুষও ছিলেন।
মাজদালাউই আরও জানান, ভারী যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামের অভাবে ধ্বংসস্তূপ থেকে মরদেহ উদ্ধারের কাজ চরম বাধার মুখে পড়ছে। এই উদ্ধার অভিযান সিভিল ডিফেন্সের দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রকল্পের অংশ, যা ১৯ জুলাই শুরু হয়েছিল।
সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল জানিয়েছেন, এই পর্যায়ে গাজা এবং এর উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের ১৪৭টি ধ্বংসপ্রাপ্ত বাড়ি তল্লাশি করা হচ্ছে, যেখানে আনুমানিক ১,০৭২টি মরদেহ চাপা পড়ে আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত বছরের নভেম্বরে শুরু হওয়া প্রথম ধাপে ৫৪টি ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবন থেকে ৩৩৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। সে সময় সীমিত সম্পদের কারণে প্রায় ২২৬ জনের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
৭ অক্টোবর আনাদোলুকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাসাল সতর্ক করে বলেন, এখনো ৮,০০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি ধ্বংসস্তূপের নিচে নিখোঁজ থাকতে পারেন। বর্তমান সম্পদ দিয়ে তাদের উদ্ধার করতে প্রায় আট বছর লেগে যেতে পারে। গাজায় ১০ অক্টোবর ২০২৫ থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রথম পর্যায়ে ইসরায়েল ভারী যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার কথা থাকলেও, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ও দলগুলোর অভিযোগ, ইসরায়েল সেই প্রতিশ্রুতি রাখতে ব্যর্থ হয়েছে।
২০২৩ সালের অক্টোবরে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ৭৪,০০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১,৭৫,০০০-এর বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। যুদ্ধের ফলে গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে।

