সোমবারের বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসি মিলান তাদের নতুন 'হেড অফ ফুটবল' বা ফুটবল প্রধান হিসেবে মার্কাস ক্রোশেকে নিয়োগ দেওয়ার জন্য একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে। ৪৫ বছর বয়সী এই জার্মান ফুটবল নির্বাহী বর্তমানে ইন্ট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্টের বোর্ড সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং ২০২৮ সাল পর্যন্ত তার চুক্তির মেয়াদ রয়েছে।
খেলোয়াড়ি জীবনে ক্রোশে একজন হোল্ডিং মিডফিল্ডার ছিলেন। তিনি ওয়ের্ডার ব্রেমেনের যুব ও রিজার্ভ দলের মাধ্যমে উঠে আসেন এবং ২০০১ সালে এসসি প্যাডারবর্নে যোগ দেন। প্যাডারবর্নের হয়ে তিনি ৩৫৬টি লিগ ম্যাচ খেলেছেন, যা ক্লাবটির ইতিহাসের রেকর্ড। ২০১৪ সালে খেলোয়াড়ি জীবন থেকে অবসরের পর তিনি প্যাডারবর্ন-২ এর দায়িত্ব নেন এবং ২০১৫ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত বায়ার লেভারকুসেনে রজার শ্মিটের সহকারী কোচ হিসেবে কাজ করেন।
২০১৬-১৭ মৌসুমের শেষদিকে শ্মিট বরখাস্ত হওয়ার পর ক্রোশে লেভারকুসেন ছেড়ে প্যাডারবর্নে ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসেবে ফিরে আসেন। তার অধীনে প্যাডারবর্ন টানা দুইবার পদোন্নতি পেয়ে প্রথমবারের মতো বুন্দেসলিগায় খেলার যোগ্যতা অর্জন করে, যা ছিল ক্লাবটির ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয়বার। এই সাফল্যের পর ২০১৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত তিনি আরবি লাইপজিগের স্পোর্টিং ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
ক্রোশে তার কর্মজীবনে বেশ কিছু হাই-প্রোফাইল খেলোয়াড়দের ট্রান্সফার সম্পন্ন করেছেন। তার উল্লেখযোগ্য ও লাভজনক সাইনিংগুলোর মধ্যে রয়েছে ডানি ওলমো, জসকো গভারদিওল, র্যান্ডাল কোলো মুয়ানি এবং হুগো একিতিকের মতো খেলোয়াড়রা।
আদেমোলা লুকম্যান: এভারটন থেকে আরবি লাইপজিগ (১৮ মিলিয়ন ইউরো)
ক্রিস্টোফার এনকুনকু: পিএসজি থেকে আরবি লাইপজিগ (১৯.৫ মিলিয়ন ইউরো, পরে চেলসির কাছে ৬০ মিলিয়নে বিক্রি)
ডানি ওলমো: ডিনামো জাগরেব থেকে আরবি লাইপজিগ (৩৪ মিলিয়ন ইউরো, পরে বার্সেলোনার কাছে ৬১ মিলিয়নে বিক্রি)
জসকো গভারদিওল: ডিনামো জাগরেব থেকে আরবি লাইপজিগ (৩৬ মিলিয়ন ইউরো, পরে ম্যানচেস্টার সিটির কাছে ৯০ মিলিয়নে বিক্রি)
লাজার সামারডজিক: হার্থা বিএসসি থেকে আরবি লাইপজিগ (৫০০,০০০ ইউরো)
জোসেপ মার্টিনেজ: লাস পালমাস থেকে আরবি লাইপজিগ (২.৫ মিলিয়ন ইউরো)
র্যান্ডাল কোলো মুয়ানি: এফসি নঁত থেকে ইন্ট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্ট (ফ্রি, পরে পিএসজির কাছে ৯৫ মিলিয়নে বিক্রি)
মারিও গোটজে: পিএসভি থেকে ইন্ট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্ট (৪.৫ মিলিয়ন ইউরো)
ওমর মারমুশ: উলফসবার্গ থেকে ইন্ট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্ট (ফ্রি, পরে ম্যানচেস্টার সিটির কাছে ৭৫ মিলিয়নে বিক্রি)
উইলিয়ান পাচো: রয়্যাল এন্টওয়ার্প থেকে ইন্ট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্ট (১৩.৫ মিলিয়ন ইউরো, পরে পিএসজির কাছে ৪০ মিলিয়নে বিক্রি)
নাথানিয়েল ব্রাউন: ১. এফসি নুরেমবার্গ থেকে ইন্ট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্ট (৫.৫ মিলিয়ন ইউরো)
হুগো একিতিকে: পিএসজি থেকে ইন্ট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্ট (৩১.৫ মিলিয়ন ইউরো, পরে লিভারপুলের কাছে ৯৫ মিলিয়নে বিক্রি)

