মাত্র ২৩ বছর বয়সী আমিন কেসাসি বর্তমানে ফ্রান্সের অন্যতম সুরক্ষিত ব্যক্তি। দেশটির সবচেয়ে বড় মাদক কার্টেলগুলোর হিটলিস্টে নাম থাকায় তাকে প্রতিনিয়ত নিরাপত্তার খাতিরে ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় রাত কাটাতে হয়। মার্সেইয়ের একটি বস্তি থেকে উঠে আসা এই আইন শিক্ষার্থী বর্তমানে ফ্রান্সের মাদকবিরোধী আন্দোলনের সবচেয়ে বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর। তার দুই ভাইয়ের হত্যাকাণ্ডের পর তিনি মাদক গ্যাংগুলোর বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থান নিয়েছেন। ফ্রান্সের এই মাদক কার্টেলগুলোর সংকট ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে একটি প্রধান রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে ডানপন্থী দলগুলো সরকারকে মাদক সম্রাটদের থামাতে ব্যর্থতার জন্য অভিযুক্ত করছে।
আমিন কেসাসির মতে, মাদক ব্যবসায়ীদের ভাষা কেবল সহিংসতা। তিনি বলেন, 'তারা কেবল সহিংসতা বোঝে। যখনই কেউ তাদের বিরুদ্ধে কথা বলে বা বাস্তবতাকে তুলে ধরে, তখনই তারা তাকে নিজেদের প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে হুমকি মনে করে।' গত সোমবার এক্স-এন-প্রোভঁস শহরের একটি আদালতে ফ্রান্সের মাফিয়া ধাঁচের মাদক কার্টেলগুলোর বিরুদ্ধে এক গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানি শুরু হয়েছে। সরকার মাদক চোরাকারবারিদের বর্তমানে সন্ত্রাসবাদের চেয়েও বড় হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
২০২০ সালে আমিনের ২২ বছর বয়সী বড় ভাই ইব্রাহিমকে গুলি করে এবং পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। ইব্রাহিম যখন কিশোর বয়সে মাদক গ্যাংয়ের কবলে পড়েছিলেন, তখন কেসাসির বয়স ছিল ১৭। ১৯৩০ থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত মার্সেই ছিল হেরোইন প্রক্রিয়াজাতকরণের কেন্দ্র, কিন্তু গত দুই দশকে এই ব্যবসা স্থানীয় তরুণদের 'শিশু সৈনিক' হিসেবে ব্যবহারের দিকে ঝুঁকেছে। আমিন স্মৃতিচারণ করে বলেন, মাত্র ১০ বছর বয়সে পাজামা পরা অবস্থায় তিনি মায়ের গাড়ির পেছনের সিটে বসে থাকতেন, যখন তার মা রাতে বস্তিগুলোতে ঘুরে বেড়াতেন তার ভাইকে গ্যাং থেকে ফিরিয়ে আনার আশায়।
আমিন কেসাসি মনে করেন, মাদক কার্টেলগুলো তরুণদের 'শিশু সৈনিক' হিসেবে ব্যবহার করছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, 'ফ্রান্সের তরুণদের এই গ্যাংগুলো প্রলোভন দেখায় যে তারা দিনে ৫০০ ইউরো আয় করতে পারবে, কিন্তু বাস্তবে তারাই মাদক যুদ্ধের প্রথম শিকার হয়।' তিনি বর্তমানে মার্সেইয়ের একটি সামাজিক আবাসন সংস্থার প্রধান হিসেবে কাজ করছেন এবং তরুণদের অপরাধ থেকে দূরে রাখতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছেন। আমিনের মতে, শিক্ষা এবং জনসেবার মাধ্যমে মাদক গ্যাংগুলোর এই মিথ ভেঙে দেওয়া সম্ভব।
বর্তমানে মার্সেইয়ের ডেপুটি মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনরত আমিন কেসাসি ফ্রান্সের মাদক সম্রাটদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তার লড়াই কেবল অপরাধের বিরুদ্ধে নয়, বরং এটি একটি সভ্যতাগত যুদ্ধ, যেখানে শিশুদের বোঝাতে হবে যে জীবনের মূল্য অর্থের চেয়ে অনেক বেশি। ফারিনা চ্যাটার নামে স্থানীয় এক সমাজকর্মীও আমিনের এই লড়াইকে সমর্থন করছেন, যিনি নিজেও ২০১৯ সালে তার জামাতাকে মাদক হামলায় হারিয়েছেন।

