প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রশাসনের পক্ষ থেকে কৃষকদের জন্য ৮ বিলিয়ন ডলারের নতুন সহায়তা কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। কানসাসে সোমবার রাতে এক জনসভায় তিনি জানান, ডিজেলের রেকর্ড দামের কারণে যে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, তাদের সহায়তায় কৃষি বিভাগ ‘হার্ভেস্ট ফুয়েল রিলিফ’ বা ফসল তোলার সময় জ্বালানি ত্রাণ কর্মসূচি চালু করবে। এই অর্থ কৃষকদের বর্তমান ফসল তোলার মৌসুমে ডিজেলের উচ্চমূল্যের প্রভাব কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করবে।
ট্রাম্প বলেন, রিপাবলিকানরা জয়ী হলে কৃষকদের জন্য আরও বেশি তহবিল বরাদ্দ করা হবে। এর আগে চলতি মাসের শুরুতে তিনি লাল রঙের ডিজেল করমুক্ত ব্যবহারের সীমা শিথিল করার জন্য একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছিলেন, যা মূলত ট্রাকচালক এবং কৃষকদের খরচ কমানোর উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছিল। গত ডিসেম্বরেও ট্রাম্প প্রশাসন কৃষকদের জন্য ১২ বিলিয়ন ডলারের একটি সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেছিল।
কৃষিকাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতির জন্য ডিজেল অপরিহার্য, আর এর আকাশচুম্বী দাম কৃষকদের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ সৃষ্টি করেছে। এএএ (AAA)-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ২২ সেপ্টেম্বর ডিজেলের দাম প্রতি গ্যালন ৬.৫৩ ডলারে পৌঁছেছিল, যা রেকর্ড। বর্তমানে এই দাম কিছুটা কমে ৬.৩২ ডলারের আশেপাশে রয়েছে, তবে তা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৭৫ শতাংশ বেশি।
মার্কিন কৃষি সচিব ব্রুক রলিন্স এক বিবৃতিতে জানান, এই ৮ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ ফসল তোলার মৌসুমে কৃষকদের অনিশ্চয়তা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করবে, যাতে তারা দেশবাসীর জন্য খাদ্য উৎপাদন অব্যাহত রাখতে পারেন।
কৃষি বিভাগের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই কর্মসূচি ২০২৬ ফসল বছরের জন্য কৃষকদের সম্ভাব্য ক্ষতির একটি অংশ পূরণ করবে। এর জন্য একটি নির্দিষ্ট সূত্র ব্যবহার করা হবে, যেখানে ফার্ম সার্ভিস এজেন্সিকে দেওয়া চাষযোগ্য জমির পরিমাণ, আনুমানিক উৎপাদন খরচ এবং কৃষি বিভাগের বিশ্ব কৃষি সরবরাহ ও চাহিদা প্রাক্কলন রিপোর্টের তথ্য বিবেচনা করা হবে। কৃষি বিভাগের সেপ্টেম্বর মাসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, উৎপাদন খরচ ৪.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ায় এ বছর নিট খামারের আয় ২.৬ শতাংশ হ্রাস পেতে পারে। শুধুমাত্র জ্বালানি ও তেল বাবদ খরচ প্রায় ৩০ শতাংশ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

