ক্রাইস্টচার্চে পাঁচ ম্যাচের সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ভারত ৭০ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ার পরও ১৮১ রানের লক্ষ্য পেরিয়ে জয় ছিনিয়ে নেয়। ম্যাচ শেষে এই হারের নেপথ্যে নিজেদের ক্যাচ মিস ও ফিল্ডিংয়ের ব্যর্থতাকে দায়ী করেছেন নিউজিল্যান্ডের অলরাউন্ডার মিচেল স্যান্টনার। তাঁর মতে, মাঠের 'ছোট ছোট ভুলই' ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে, নতুবা নিউজিল্যান্ডই সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকতে পারত।
ম্যাচ পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় স্যান্টনার জানান, ক্রাইস্টচার্চের মাঠে বাতাসের গতিপ্রকৃতির কারণে ক্যাচ নেওয়া বেশ চ্যালেঞ্জিং। তবে দুই দলের স্কিল ও শক্তির দিক থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা খুব কাছাকাছি হলেও মাঠের ছোট ছোট মুহূর্তগুলোই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দিয়েছে। বিশেষ করে রান তাড়ার শেষ ভাগে কিউই দল সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও পরপর কয়েকটি ক্যাচ মিস ও ফিল্ডিংয়ের ভুল তাদের ম্যাচ থেকে ছিটকে দেয়।
ভারতীয় ইনিংসে মোট চারজন ব্যাটারকে জীবন দেয় নিউজিল্যান্ডের ফিল্ডাররা। রান তাড়ার দ্বিতীয় ওভারেই জ্যাকব ডাফির ওভারস্টেপ করার কারণে নো-বলে বেঁচে যান অভিষেক শর্মা। এরপর লকি ফার্গুসনের স্পেলের প্রথম বলেই বাউন্ডারি লাইনে সঞ্জু স্যামসনের সহজ ক্যাচ হাতছাড়া করেন স্যান্টনার নিজে। মাইকেল ব্রেসওয়েলের বলে বৈভব সূর্যবংশীর ক্যাচ ছাড়েন বেভন জ্যাকবস। পরে ১৩তম ওভারে নামান ধীরের ক্যাচও মিস করেন একই ফিল্ডার।
ফিল্ডিংয়ের এই ঘাটতির পাশাপাশি ভারতের মিডল ও লোয়ার অর্ডার ব্যাটারদের দারুণ লড়াইকে রূপান্তরের প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন স্যান্টনার। তিলক ভার্মার ২৬ বলে অপরাজিত ৫১ রানের ইনিংসের প্রশংসা করে তিনি জানান, তিলক শুরুতে কিছুটা সময় নিলেও নিতীশ কুমার রেড্ডির সঙ্গে মিলে চমৎকারভাবে ম্যাচ শেষ করেছেন। স্যান্টনার আরও উল্লেখ করেন, মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সে খেলার সূত্রে তিলককে তিনি বেশ কয়েক বছর ধরে দেখছেন এবং নামান ধীরও ক্রিজে এসে শুরু থেকেই অত্যন্ত মুক্তভাবে শট খেলেছেন।
দ্বিতীয় ইনিংসে বোলিংয়ের অবস্থা প্রসঙ্গে স্যান্টনার বলেন, বাতাসের প্রভাব থাকায় প্রথম ম্যাচের তুলনায় দ্বিতীয় ম্যাচে শিশির কিছুটা কম ছিল। তবে রাতের পরের অংশে বল ব্যাটে স্কিড করে ভালোভাবে আসার কারণে রান তাড়া করা দলগুলো সুবিধা পাচ্ছে। দুই ম্যাচেই টসে জয়ী ও রান তাড়া করা দলই শেষ পর্যন্ত ম্যাচ জিতেছে।
বর্তমানে সিরিজে ভারত ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। আগামী ২৭ অক্টোবর ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। স্যান্টনার আশা প্রকাশ করেন, ওয়েলিংটনের কন্ডিশন মূল্যায়ন করে সঠিক পরিকল্পনা নিয়ে তারা পরবর্তী ম্যাচে ভারতের বিরুদ্ধে ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হবেন।

