ইউরোপসেরার মঞ্চে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে ৪-১ গোলে হারানোর দুর্দান্ত স্মৃতির পর ইতালিয়ান সিরি আ-তেও জয়ের ধারা ধরে রেখেছে কোমো। একাদশে একাধিক পরিবর্তন আনা সত্ত্বেও ঘরের মাঠে সাসুওলোকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়েছে তারা। ম্যাচের দ্বিতীয় অর্ধে গ্রিক ফরোয়ার্ড তাসোস ডুভিকাসের চোখধাঁধানো জোড়া গোলেই জয় নিশ্চিত হয় সেস্ক ফাব্রেগাসের শিষ্যদের।
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে স্মরণীয় জয়ের পর এই ম্যাচে স্কোয়াডে বেশ কয়েকটি পরিবর্তন আনতে হয় কোমোকে। ইনজুরির কারণে দলের বাইরে ছিলেন মাত্তিয়া লিবেরালি, ট্রেভো চালোবাহ, আসানে দিয়াও ও জেসুস রদ্রিগেজ। তবে বেঞ্চে ফেরেন ময়েস কিন এবং প্রথম একাদশে প্রথমবারের মতো সুযোগ পান সামুয়েলে রিচ্চি। অন্যদিকে, শেষ তিন ম্যাচে মাত্র এক পয়েন্ট পাওয়া সাসুওলো দলে ছিলেন না জয় ইডজেস, ফেডে লেয়সেন, দানিয়েল বলোকা ও ইসমায়েল কোনে। তবে চোট কাটিয়ে ফিটনেস ফিরে পান ক্রিস্তিয়ান ভোল্পাতো।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে কোমো। ম্যাচের সপ্তম মিনিটে লুকাস দা কুনহা ডান দিক থেকে বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে সেই গোল বাতিল হয়। এরপর নেমানিয়া মাতিচ ফ্রি-কিক থেকে পাওয়া বলে হেড করলেও তা পোস্টের বাইরে দিয়ে যায়। স্বাগতিকদের পক্ষে দারুণ একটি সুযোগ তৈরি করেছিলেন ডুভিকাস, কিন্তু বেশ কঠিন কোণ থেকে নেওয়া তাঁর শট প্রতিপক্ষের গায়ে লেগে কাছের পোস্টে আঘাত করে। এরপর ডুভিকাসের আরেকটি জোরালো শট কোনোমতে ঠেকিয়ে দেন সাসুওলো গোলরক্ষক স্তেফানো তুরোতি। ফিরতি বলে ম্যাক্সেন্স কাকেরেটের দুর্বল ফিনিশিং ও পরবর্তীতে বেনজামিন দোমিঙ্গেসের ভুল লক্ষ্যের শটে গোলের সুযোগ নষ্ট হয়।
প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়ে দোমিঙ্গেসের একটি পাসের পর বল ব্রুনো কাইকির হাতে লাগলে পেনাল্টি দাবি করে কোমো। তবে মাটিতে পড়ার সময় হাত স্বাভাবিক অবস্থানে থাকায় রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজাননি। প্রথমার্ধের একদম শেষ মুহূর্তে সাসুওলোও জালে বল পাঠিয়েছিল। কিয়েরন বোউইয়ের কাছ থেকে বল পেয়ে দারিয়িল বাকোলা গোল করলেও, পাস দেওয়ার আগেই বোউই অফসাইডে থাকায় সেই গোলও বাতিল করে দেওয়া হয়।
দলীয় পারফরম্যান্সে পুরোপুরি সন্তুষ্ট না হয়ে বিরতির সময় একসঙ্গে তিনটি পরিবর্তন আনেন কোমো কোচ সেস্ক ফাব্রেগাস। কোচের এই সিদ্ধান্ত দ্রুতই ফল দেয়। দ্বিতীয় অর্দের মাত্র তিন মিনিটের মাথায় (৪৮ মিনিটে) মাঝমাঠে দারুণভাবে স্লাইড করে বল কেড়ে নেন কাকেরেট এবং পাস বাড়ান বাম দিকে থাকা কাইকিকে। কাইকির বাড়িয়ে দেওয়া বল ধরে সহজেই জালে জড়িয়ে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন ডুভিকাস। মাঝমাঠে মাতিচকে ফাউল করা হয়েছে বলে সাসুওলোর খেলোয়াড়রা দাবি করলেও রেফারি নিশ্চিত করেন যে কাকেরেট আগে বল স্পর্শ করেছিলেন।
ব্যবধান দ্বিগুণ করার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন জেডেন আদাই, তবে ডানদিক থেকে তাঁর নেওয়া কঠিন শট আবারও ঠেকিয়ে দেন তুরোতি। এরপর কাকেরেটের নেওয়া হেডার ইনিয়াসে ভ্যান ডার ব্রেম্পটের গায়ে লেগে মাঠের বাইরে চলে যায়। তবে কিছুক্ষণ পরেই আবারও মাঝমাঠে প্রতিপক্ষের পাস ইন্টারসেপ্ট করেন কাইকি এবং বাম দিক থেকে বাইলাইনের কাছে গিয়ে নিচু ক্রস বাড়ান। সেখান থেকে ১০ গজ দূর থেকে স্লাইড করে বল জালে ঠেলে দিয়ে ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় গোল ও দলের ২-০ জয় নিশ্চিত করেন ডুভিকাস। ম্যাচের শেষদিকে সাসুওলোর রক্ষণভাগের ভুলে লুইস মিলা ব্যবধান ৩-০ করার সহজ সুযোগ মিস করেন এবং অতিরিক্ত সময়ে জাকোবো রামনের একটি আক্রমণ পণ্ড করে দেয় সফরকারীদের রক্ষণ।

