জার্মান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডব্রিন্ডের একটি মন্তব্যকে ঘিরে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। গত সপ্তাহান্তে জার্মানিতে অনুষ্ঠিত হওয়া যুব বিক্ষোভের পরবর্তী সহিংস ঘটনার জন্য তিনি ‘অভিবাসী উপদ্রবকারীদের’ দায়ী করেন। রক্ষণশীল ক্রিশ্চিয়ান সোশ্যাল ইউনিয়নের (সিএসইউ) সদস্য ডব্রিন্ড বিল্ড সংবাদপত্রকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, এই গোষ্ঠীগুলো শনিবারের শান্তিপূর্ণ দিনের বিক্ষোভকে হাইজ্যাক করেছে। তিনি বলেন, দাঙ্গাবাজ ও লুটতরাজকারীদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে এবং প্যারিসের মতো সহিংসতা প্রতিরোধ করার জন্য তিনি পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করেন।
তবে ডব্রিন্ডের এই মন্তব্য তার জোট সরকারের অংশীদার সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এসপিডি) নেতাদের ক্ষুব্ধ করেছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী বোরিস পিস্টোরিয়াস পাবলিক ব্রডকাস্টার জেডডিএফ-এর সাথে এক সাক্ষাৎকারে ডব্রিন্ডের বক্তব্য থেকে দূরত্ব বজায় রেখে বলেন, অভিবাসী গোষ্ঠীগুলো সম্পর্কে ঢালাও মন্তব্য করা ঠিক নয়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘অভিবাসী গোষ্ঠী বলতে আসলে কাদের বোঝানো হচ্ছে? এর মধ্যে কি সেই ব্যক্তিরা অন্তর্ভুক্ত যারা তিন প্রজন্ম ধরে জার্মানিতে বসবাস করছেন এবং জার্মান নাগরিক? আমরা কোন পর্যায়ে এসে এই ধরনের পার্থক্য করা বন্ধ করব?’ পিস্টোরিয়াস সতর্ক করে বলেন, এই ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি ভুল দিকে ধাবিত হচ্ছে এবং সহিংসতা মূলত অপরাধী ও চরমপন্থীদের কাজ।
বিরোধী বাম দলের স্বরাষ্ট্র বিষয়ক মুখপাত্র ক্লারা বুয়েঙ্গার ডব্রিন্ডের মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করে একে ‘অসহনীয়’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, ডব্রিন্ড জেনেশুনে বর্ণবাদী মনোভাব উসকে দিচ্ছেন। বুয়েঙ্গার বলেন, অপরাধের কারণ কোনো ব্যক্তির উৎপত্তির মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা যায় না, বরং এটি বিভিন্ন সামাজিক ও ব্যক্তিগত কারণের ওপর নির্ভর করে। তিনি আরও যোগ করেন, বর্ণবাদী আখ্যান দিয়ে তরুণ প্রজন্মের উদ্বেগ দূর করা সম্ভব নয়, বরং তাদের দাবিগুলো গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
উল্লেখ্য যে, শনিবার ‘জেন জেড রেগেল্ট’ উদ্যোগের ব্যানারে জার্মানির ৩০টিরও বেশি শহরে সামাজিক ব্যয় সংকোচন, সামরিক বাধ্যতামূলক সেবা পুনর্বহাল এবং অন্যান্য সরকারি নীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজকরা জানিয়েছেন, দিনের বেলার বিক্ষোভগুলো শান্তিপূর্ণ ছিল এবং সন্ধ্যার পর ঘটা সহিংসতার সাথে তাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। সন্ধ্যার অস্থিরতায় ফ্রাঙ্কফুর্ট সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যেখানে দোকানপাট ভাঙচুর, লুটপাট এবং পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সন্ধ্যার অস্থিরতায় অংশগ্রহণকারীদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য অস্পষ্ট ছিল এবং অনেকে হয়তো ফ্রান্সের লুটপাটের চিত্র দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে থাকতে পারে।

