সিলেটে বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচে আমির জাঙ্গু তার দুর্দান্ত ব্যাটিং নৈপুণ্য প্রদর্শন করেছেন। এই ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজ যখন মাত্র ২৭ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল, তখন জাঙ্গু এবং টেস্ট অভিষেক হওয়া কেভিন উইকহ্যাম মিলে দলের হাল ধরেন। চতুর্থ উইকেটে তাদের ১৩১ রানের জুটি দলকে বড় বিপর্যয় থেকে রক্ষা করে।
ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে উইকহ্যাম জানান, তার অভিষেক ইনিংসের বড় একটি সময় জুড়ে জাঙ্গু তাকে পথ দেখিয়েছেন। তিনি বলেন, 'আমার মনে হয় আমির খুব ভালো ব্যাটিং করেছে। আমার ইনিংসের বেশিরভাগ সময় সে আমাকে গাইড করেছে এবং শিখিয়েছে টেস্ট ক্রিকেট আসলে কেমন হয়। সে আমাকে ধৈর্য ধরে খেলতে বলেছে এবং বোলিংয়ের ধারাবাহিকতা বুঝে রক্ষণাত্মক খেলার ওপর আস্থা রাখতে বলেছে। আমার ক্ষেত্রে এটি দারুণ কাজে দিয়েছে।'
উইকহ্যাম ১৪৫ বলে ৫টি চারের সাহায্যে ৬১ রান করে আউট হলেও জাঙ্গু অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন। ২৩ বছর বয়সী এই ব্যাটার তার দশম টেস্ট ইনিংসে দ্বিতীয় সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন। এর আগে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ডাবল সেঞ্চুরি এবং ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে সেঞ্চুরির মাধ্যমে দারুণ ফর্মে থাকা জাঙ্গুর প্রশংসা করে উইকহ্যাম বলেন, 'জাঙ্গু দলের জন্য বিশাল সম্পদ। সে একবার ছন্দ পেয়ে গেলে বড় ইনিংস খেলতে জানে। সে অসাধারণ এক প্রতিভা।'
অভিষেক টেস্টে স্নায়ুচাপের কথা স্বীকার করে উইকহ্যাম বলেন, 'অভিষেক ম্যাচ নিয়ে কিছুটা স্নায়ুচাপ ছিলই। শুরুতে উইকেট পড়ার পর আমার মূল লক্ষ্য ছিল যত বেশিক্ষণ সম্ভব ক্রিজে থাকা। নতুন বলের সময়টা পার হওয়ার পর ব্যাটিং তুলনামূলক সহজ হয়ে যায়।'
জন ক্যাম্পবেল এবং তেজনারাইন চন্দরপল জ্বরে আক্রান্ত হওয়ায় এই ম্যাচে সুযোগ পান উইকহ্যাম। কোচ ড্যারেন স্যামি তাকে আগের রাতে প্রস্তুত থাকতে বলেছিলেন এবং সকালে তাকে অভিষেকের খবরটি জানান। ঘরোয়া মৌসুমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ চ্যাম্পিয়নশিপে টানা তিন সেঞ্চুরির আত্মবিশ্বাস নিয়ে তিনি এই সফরে এসেছেন। টেস্ট দলে জায়গা পাওয়া কঠিন জেনেও নিজের প্রস্তুতির ওপর আস্থা রেখেছিলেন এই বার্বাডিয়ান ক্রিকেটার।

