জার্মানির রক্ষণশীল রাজনৈতিক দল ফ্রি ভোটারস-এর নেতা হুবার্ট আইওয়াঙ্গারকে বার্লিনের একটি হোটেলে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। বুধবার সন্ধ্যায় শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ওই হোটেলের কক্ষে তার মরদেহ খুঁজে পায় বার্লিন পুলিশ এবং প্রসিকিউটররা। মৃত্যুর সঠিক কারণ উদ্ঘাটনে ইতোমধ্যে একটি তদন্ত শুরু করা হয়েছে। ৫৫ বছর বয়সী এই রাজনীতিক বাভারিয়া অঙ্গরাজ্যের উপ-গভর্নর এবং অর্থনীতি মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছিলেন।
জার্মান সংবাদ সংস্থা ডিপিএ-এর তথ্য অনুযায়ী, বুধবার বিকেলে বার্লিনে নিজের দলের একটি নতুন কার্যালয়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইওয়াঙ্গারের বক্তৃতা দেওয়ার কথা ছিল। তবে শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি শেষ মুহূর্তে সেই অনুষ্ঠান থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন।
২০০৬ সাল থেকে বাভারিয়ায় এবং ২০১০ সাল থেকে জাতীয় পর্যায়ে ফ্রি ভোটারস পার্টির নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন আইওয়াঙ্গার। একজন লড়াকু রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত আইওয়াঙ্গার তার আঞ্চলিক টান এবং জনতুষ্টিবাদী ধারার রাজনীতির মাধ্যমে বাভারিয়ার দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী দল ক্রিশ্চিয়ান সোশ্যাল ইউনিয়নকে (সিএসইউ) বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছিলেন। তার নেতৃত্বেই ২০০৮ সালে দলটি প্রথমবারের মতো বাভারিয়ার রাজ্য আইনসভায় প্রবেশ করে। পরবর্তী সময়ে ২০১৮ সালে সিএসইউ সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালে ফ্রি ভোটারস বাভারিয়ার সরকারে জোট শরিক হিসেবে জায়গা করে নেয়।
২০২৩ সালে বাভারিয়ার নির্বাচনের ঠিক আগে আইওয়াঙ্গার বড় ধরনের বিতর্কের মুখে পড়েছিলেন। ৩৫ বছর আগে হাইস্কুলে পড়ার সময় তার বিরুদ্ধে একটি ইহুদিবিদ্বেষী প্রচারপত্র তৈরির অভিযোগ ওঠে। যদিও তিনি সেই অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছিলেন। সেই বিতর্কের পরও ফ্রি ভোটারস নির্বাচনে ভালো ফলাফল করে এবং রাজ্য সরকারে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখে। তবে জার্মানির জাতীয় সংসদে দলটি খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি এবং আইওয়াঙ্গারও সেটিকে জাতীয় পর্যায়ে বড় কোনো শক্তিতে রূপান্তর করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন।
আইওয়াঙ্গারের আকস্মিক মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন বাভারিয়ার গভর্নর মার্কাস সোয়েডার। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, "হুবার্ট আইওয়াঙ্গারের আকস্মিক মৃত্যু একটি চরম ট্র্যাজেডি।" ব্যক্তিগত জীবনে আইওয়াঙ্গার তার সঙ্গী ও ফ্রি ভোটারস দলের রাজনীতিক তানিয়া শোয়েইগার এবং দুই সন্তান রেখে গেছেন।

