রাজধানীতে ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের পূর্বঘোষিত শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনে হামলার ঘটনা ঘটেছে। স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নেতা আমিনুল ইসলাম ইমনের নেতৃত্বে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে সংগঠনটি। হামলায় ওলামা অ্যালায়েন্সের আহ্বায়ক আশরাফ উদ্দিন মাহদি এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক মাহমুদ হাসানসহ বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা আক্রান্ত হয়েছেন। শনিবার এক বিবৃতিতে সংগঠনটির পক্ষ থেকে এই অভিযোগ করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, হবিগঞ্জে আলিফের চোখ উপড়ে ফেলা, দেশের বিভিন্ন স্থানে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীদের ওপর হামলা এবং কুড়িগ্রামে ওলামা অ্যালায়েন্সের আহ্বায়ক দিনার মিনহাজ ও নেত্রকোনায় কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব শাহ আলমের ওপর হামলার প্রতিবাদে এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়েছিল। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ওলামা অ্যালায়েন্সের উদ্যোগে শনিবার বাদ আসর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এই কর্মসূচি শুরু হয়।
কর্মসূচি চলাকালে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা ইমনের নেতৃত্বে একদল লোক লাঠিসোঁটা নিয়ে দিনের বেলায় মশাল মিছিলের নামে সেখানে মহড়া দেয়। একপর্যায়ে তারা ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিয়ে মানববন্ধনে অংশ নেওয়া আলেমদের ওপর চড়াও হয় এবং তাদের প্রেস রিলিজ কেড়ে নেয়। ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সহসভাপতি হাদিস হাওলাদার এবং মোহাম্মদপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ফরহাদ ইসলামও এই হামলার নেতৃত্বে ছিলেন। উল্লেখ্য, ইমন ‘আমরা জুলাই যোদ্ধা’ নামের একটি সংগঠনেরও আহ্বায়ক।
হামলার নিন্দা জানিয়ে ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের আহ্বায়ক আশরাফ উদ্দিন মাহদি বলেন, পুলিশের উপস্থিতিতেই এই শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে হামলা চালানো হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন ভুঁইফোড় সংগঠন তৈরি করে সহিংসতার কাজে লাগানো হচ্ছে। অতীতে আওয়ামী লীগ যেভাবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নাম ব্যবহার করে এ ধরনের সংগঠন তৈরি করেছিল, বিএনপিও যদি একই পথ অনুসরণ করে তবে তাদেরও এর চরম পরিণতি ভোগ করতে হবে।
এদিকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক মুফতি মাহমুদ হাসান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এভাবে হামলা চালিয়ে ওলামা অ্যালায়েন্সের আলেমদের মুখ বন্ধ করা যাবে না। আলেম-ওলামাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন ও স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশের অধিকার নিশ্চিত করতে তিনি প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান।

