রাজধানী ঢাকার দীর্ঘদিনের পুরোনো অভিশাপ যানজট নিরসনে যুক্ত হতে যাচ্ছে নতুন মাইলফলক। এখন থেকে গাবতলী থেকে আফতাবনগর পার হয়ে দাশেরকান্দি পৌঁছাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় আটকে থাকতে হবে না। ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) নতুন উদ্যোগ এমআরটি লাইন-৫ (দক্ষিণ রুট) বাস্তবায়িত হলে এই পথ পাড়ি দেওয়া যাবে মাত্র ২৮ মিনিটে।
মেট্রোরেলের এই নতুন পথ চালু হলে রাজধানীর পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তের গণপরিবহন ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
একনজরে নতুন রুট
ডিএমটিসিএল সূত্রে জানা গেছে, ১৭ দশমিক ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই মেট্রোরেল রুটের বড় অংশই হবে মাটির নিচে (পাতালরেল)। রুটে মোট স্টেশন থাকবে ১৫টি।
প্রধান স্টেশনগুলো হলো: গাবতলী, টেকনিক্যাল, কল্যাণপুর, শ্যামলী, আসাদ গেট, রাসেল স্কয়ার, পান্থপথ, কারওয়ান বাজার, হাতিরঝিল, নিকেতন, বাড্ডা, আফতাবনগর ও দাশেরকান্দি।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?
বর্তমানে ব্যস্ত কর্মদিবসে গাবতলী থেকে কারওয়ান বাজার হয়ে দাশেরকান্দি যেতে বাসে বা ব্যক্তিগত গাড়িতে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা সময় লেগে যায়। কোনো কোনো দিন এই সময় আড়াই ঘণ্টাও ছাড়িয়ে যায়। মেট্রোরেল চালু হলে সম্পূর্ণ যানজটমুক্ত পরিবেশে দ্রুততম সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে।
এ ছাড়া এই রুটের গাবতলী ও কারওয়ান বাজার স্টেশনে যাত্রীরা আগের এমআরটি লাইন-৬ (উত্তরা-মতিঝিল)-এর সঙ্গে সংযোগ সুবিধা পাবেন। ফলে খুব সহজেই লাইন পরিবর্তন করে শহরের অন্য প্রান্তে যাতায়াত করা যাবে।
পাতাল ও উড়ালপথের সমন্বয়
শহরের অতিমাত্রায় জনবহুল ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোতে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে এই প্রকল্পের একটি বড় অংশ ভূগর্ভস্থ (টানেল) করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সর্বাধুনিক টানেল বোরিং মেশিন (টিবিএম) ব্যবহার করে মাটির নিচ দিয়ে সুড়ঙ্গ তৈরি করা হবে, যাতে ওপরের স্বাভাবিক সড়ক যোগাযোগে কোনো বিঘ্ন না ঘটে।
যোগাযোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুতগতির এই মেট্রোরেল সার্ভিস চালু হলে শুধু মানুষের যাতায়াতের সময় ও কষ্টই কমবে না, বরং ঢাকার অর্থনৈতিক গতিশীলতা বহু গুণ বেড়ে যাবে।
