নেপালের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় সানসারি (Sunsari) জেলায় হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক সহিংসতার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বেশ কয়েকটি শহরে এখনো কারফিউ জারি রাখা হয়েছে। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে চলা এই উত্তেজনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন অন্তত ২৫ জন।
স্থানীয় প্রশাসন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, গত রোববার রাতে ভারত সীমান্তবর্তী সানসারি জেলার দেওয়ানগঞ্জ (Diwanganj) এলাকায় একটি হিন্দু ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। মিউজিকের উচ্চ শব্দ এবং ধর্মীয় পতাকা টানানো নিয়ে দুই পক্ষে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়, যা দ্রুতই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়।
বর্তমান পরিস্থিতি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ:
সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সানসারি জেলা ও এর আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলোতে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ জারি করা হয়েছে। রাস্তায় সেনাবাহিনী ও অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছে।
সানসারি জেলার প্রধান জেলা কর্মকর্তা জানান, পরিস্থিতি থমথমে থাকলেও বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। দুষ্কৃতকারীদের শনাক্ত করতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত আছে এবং সহিংসতায় জড়িত থাকার অভিযোগে বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।
পাশাপাশি, ভারত-নেপাল সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে, যাতে সীমান্ত পেরিয়ে নতুন করে কোনো উসকানি বা অনুপ্রবেশ ঘটতে না পারে।
শান্তি বজায় রাখার আহ্বান:
নেপালের কেন্দ্রীয় সরকার এবং স্থানীয় ধর্মীয় নেতারা উভয় সম্প্রদায়কে শান্ত থাকার এবং সম্প্রীতি বজায় রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুই পক্ষের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি শান্তি বৈঠক আয়োজনের চেষ্টা চলছে।
উল্লেখ্য, হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ নেপালে অতীতে বড় ধরনের ধর্মীয় সংঘাতের নজির বিরল হলেও, সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গুজব ও স্থানীয় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সীমান্ত সংলগ্ন অঞ্চলগুলোতে মাঝে মধ্যেই কিছুটা সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা দেখা দিচ্ছে।
