দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের রাষ্ট্রীয় সম্মান ও নানামুখী সুবিধা দিতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রয়োজনীয়তার কথা মাথায় রেখে খুব শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে বহুমুখী সুবিধাসম্পন্ন ‘প্রবাসী কার্ড’। সরকারের এই উপহারের ফলে প্রবাসীদের জীবনযাত্রা ও আর্থিক লেনদেনে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে চলেছে।
প্রবাসে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে কষ্টার্জিত অর্থ দেশে পাঠানো এই বীরদের সুবিধা বাড়াতে এই কার্ডে যুক্ত করা হচ্ছে আন্তর্জাতিক মানের সব সেবা।
এক নজরে প্রবাসীদের জন্য কী কী থাকছে এই কার্ডে:
- ডুয়েল কারেন্সি সুবিধা: টাকা এবং ডলার—দুই মুদ্রাতেই এই কার্ড দিয়ে কেনাকাটা ও লেনদেন করা যাবে। অর্থাৎ, দেশে কিংবা বিদেশে—যেকোনো স্থান থেকেই ব্যবহার করা যাবে এই স্মার্ট কার্ডটি।
- এয়ারপোর্ট লাউঞ্জে ভিআইপি সুবিধা: দেশে যাতায়াতের সময় বিমানবন্দরে দীর্ঘ অপেক্ষার কষ্ট দূর করতে কার্ডধারীদের জন্য থাকছে বিশেষ এয়ারপোর্ট লাউঞ্জ ব্যবহারের সুযোগ।
- বিমানের টিকিট ও হোটেলে বিশেষ ছাড়: প্রবাসীদের আসা-যাওয়ার খরচ কমাতে বিমানের টিকিট কাটা, অনলাইন শপিং এবং দেশ-বিদেশের হোটেল বুকিংয়ে মিলবে আকর্ষণীয় ডিসকাউন্ট।
- বীমা ও সামাজিক সুরক্ষা: কাজ করতে গিয়ে যেকোনো দুর্ঘটনায় বা সংকটে প্রবাসীরা যেন আর্থিক ক্ষতিপূরণ পান, সে জন্য বিএমইটি-সংশ্লিষ্ট বিশেষ বীমা ও পুনর্বাসন সুবিধা যুক্ত থাকছে এতে।
- রেমিট্যান্সে অতিরিক্ত সরকারি প্রণোদনা: এই কার্ডের মাধ্যমে বৈধ পথে দেশে টাকা পাঠালে সরকারের নির্ধারিত ক্যাশ ব্যাক বা রেমিট্যান্স প্রণোদনার বাইরেও বাড়তি আর্থিক সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
- আবাসন প্রকল্পে অগ্রাধিকার: দেশে গড়ে তোলা বিভিন্ন ‘প্রবাসী সিটি’ ও সরকারি আবাসন প্রকল্পে বাড়ি বা প্লট বরাদ্দের ক্ষেত্রে প্রবাসী কার্ডধারীরা পাবেন বাড়তি অগ্রাধিকার।
কার্ডটি কখন ও কীভাবে পাওয়া যাবে?
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রাথমিক পর্যায়ে পরীক্ষামূলকভাবে (পাইলট প্রকল্প) দেশের কয়েক হাজার প্রবাসী কর্মীর হাতে এই কার্ড তুলে দেওয়া হবে। প্রথম ধাপের অভিজ্ঞতা ও তথ্যের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তীতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত সমস্ত বাংলাদেশি প্রবাসীর মাঝে পর্যায়ক্রমে এটি বিতরণ করা হবে।
রেমিট্যান্স প্রবাহকে উদ্দীপ্ত করতে এবং প্রবাসীদের প্রাপ্য সম্মানটুকু দিতে সরকারের এই পদক্ষেপকে ঐতিহাসিক উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
