২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সময় ফুটবল তারকা লিওনেল মেসিকে হত্যার একটি ভয়াবহ সন্ত্রাসী ষড়যন্ত্রের তথ্য পুলিশের নথিপত্রে উঠে এসেছে। ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফুটবলের এই মহাযজ্ঞ চলাকালীন কয়েকটি সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই টুর্নামেন্টে স্পেন চ্যাম্পিয়ন হয় এবং ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে পরাজিত করে।
টুর্নামেন্টের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এফবিআই এবং সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পুলিশ কো-অপারেশন (আইপিসিসি)-এর নেতৃত্বাধীন একটি যৌথ নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক কঠোর পরিশ্রম করেছিল। তবে লিওনেল মেসি এবং ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর মতো তারকাদের উপস্থিতি টুর্নামেন্টটিকে বড় ধরনের নিরাপত্তার ঝুঁকির মুখে ফেলেছিল।
এক সন্ত্রাসী এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দাবি করেছিল, সে আটলান্টা স্টেডিয়ামে ঢুকে নিজের শরীরে চারটি বোমা বেঁধে মেসিকে উড়িয়ে দেবে। মেসিকে এই টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। এছাড়া, ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেসিয়ের হোয়াটসঅ্যাপে ছয় হাজারটি হুমকির মুখোমুখি হয়েছিলেন বলেও জানা গেছে।
সবচেয়ে গুরুতর হুমকিটি আসে যখন একজন ব্যক্তি ডালাস বিমানবন্দরে ফোন করে জানায় যে, সে এবং আরও দুজন ব্যক্তি 'হোমমেড বোমা ও এআর-১৫' আধা-স্বয়ংক্রিয় রাইফেল নিয়ে স্টেডিয়ামের দিকে যাচ্ছে। ওই বার্তায় পুলিশ কর্মকর্তা ও খেলোয়াড়দের লক্ষ্যবস্তু করা হলেও বিশেষভাবে মেসির নাম উল্লেখ করা হয়েছিল। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকেও টুর্নামেন্ট চলাকালীন সবচেয়ে বেশি হয়রানির শিকার হতে হয়েছিল। গত ১৪ জুন একজন ফিফা কর্মী রোনালদোর আবাসস্থল সম্পর্কে তথ্য জানতে চাওয়া এক 'সন্দেহভাজন ব্যক্তি'র কথা রিপোর্ট করেন। টরন্টো, হিউস্টন এবং মিয়ামিতেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল।
এদিকে, আর্জেন্টিনার ফুটবল ফেডারেশনের (এএফএ) প্রেসিডেন্ট সিকি তাপিয়া জানিয়েছেন, ২০২৬ বিশ্বকাপের পর মেসির ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ তার ব্যক্তিগত। তিনি বলেন, 'এটি একটি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। আমাদের তাকে শান্তিতে থাকতে দেওয়া উচিত এবং জায়গা দেওয়া উচিত। এটি একটি চমৎকার বিশ্বকাপ ছিল, আমরা অনেক উপভোগ করেছি এবং আমরা গর্বিত। প্রতিটি ম্যাচের পর প্রতিটি আলিঙ্গন আমার মনে থাকবে, কারণ এটি আমার কাছে ব্যক্তিগত। এটি আমাদের মধ্যকার সম্পর্ক ও ভালোবাসার প্রতিফলন।'
লিওনেল মেসি আর্জেন্টিনার হয়ে ২০৭টি ম্যাচে ১২৫টি গোল করেছেন। তিনি আন্তর্জাতিক ফুটবলে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলা খেলোয়াড়। ২০২২ সালে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জেতানো মেসি ২০১৪ ও ২০২৬ সালে রানার্সআপ দলের অধিনায়ক ছিলেন। এছাড়া তিনি দুটি কোপা আমেরিকা শিরোপাও জিতেছেন। এখন ৩৯ বছর বয়সী এই তারকা আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলে জল্পনা রয়েছে।

