কানেকটিকাটের ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারি নির্বাচনে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটেছে। ১৯৯০-এর দশকের শেষভাগ থেকে সেন্ট্রাল কানেকটিকাটের প্রতিনিধিত্ব করা টানা ১৪ বারের ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি জন লারসনকে হারিয়ে দিয়েছেন হার্টফোর্ডের সাবেক মেয়র লুক ব্রোনিন। সিবিএস নিউজের এক পূর্বাভাসে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার রাতের এই নির্বাচনে যখন অর্ধেকের সামান্য বেশি ভোট গণনা শেষ হয় (পূর্বাঞ্চলীয় সময় রাত ১০টা ১৫ মিনিট নাগাদ), তখন লারসনের চেয়ে প্রায় ২০ শতাংশ পয়েন্ট বা প্রায় ৭,০০০ ভোটে এগিয়ে ছিলেন ব্রোনিন। এই লড়াইয়ে অন্য দুই প্রার্থী—ওয়েস্ট হার্টফোর্ডের স্টেট রিপ্রেজেন্টেটিভ জিলিয়ান গিলক্রিস্ট এবং হার্টফোর্ড বোর্ড অব এডুকেশনের সদস্য রুথ ফরচুন দুই শীর্ষ প্রার্থীর চেয়ে বেশ পিছিয়ে ছিলেন।
ডেমোক্র্যাটদের নিরাপদ আসন হিসেবে পরিচিত হার্টফোর্ড এলাকার এই আসনে নীতিগত বিষয়ে প্রার্থীদের মধ্যে তেমন কোনো বড় পার্থক্য ছিল না। মূল লড়াইটি ছিল বয়সের ব্যবধান ও নতুন নেতৃত্ব বনাম অভিজ্ঞতার। ৭৮ বছর বয়সী লারসন ১৫তম মেয়াদের জন্য লড়ছিলেন, যেখানে ব্রোনিন তার চেয়ে ৩১ বছরের ছোট।
ব্রোনিনের প্রচারণার মূল স্লোগানই ছিল নেতৃত্বের পরিবর্তন। তার প্রচারণামূলক ওয়েবসাইটে তিনি "নতুন শক্তি, নতুন ধারণা এবং নতুন দৃষ্টিভঙ্গি" নিয়ে আসার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তিনি লারসনকে "স্থিতাবস্থার" প্রার্থী হিসেবে আখ্যায়িত করে ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, "একই কাজ বারবার করে যাওয়ার জন্য পরিস্থিতি এখন অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।"
এর আগে গত মে মাসে কানেকটিকাট ডেমোক্র্যাটিক পার্টির কনভেনশনে লারসনকে বাদ দিয়ে ব্রোনিনকে সমর্থন দেওয়া হয়, যা ছিল একটি বড় চমক। সে সময় ব্রোনিন তার প্রতিদ্বন্দ্বী লারসনকে "মশাল হস্তান্তর" বা নেতৃত্ব ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। এছাড়া বাইডেন প্রশাসনের সাবেক পরিবহন মন্ত্রী ও ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী পিট বুটিগিগও ব্রোনিনকে সমর্থন দিয়েছেন, যাকে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অন্যতম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
অন্যদিকে, লারসন তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতাকে বড় শক্তি হিসেবে তুলে ধরেছিলেন। তিনি যুক্তি দিয়েছিলেন যে, তিনি তার এলাকার মানুষের জন্য কাজ করেছেন এবং প্রতিনিধি পরিষদের অন্যতম দীর্ঘমেয়াদী ডেমোক্র্যাট সদস্য হিসেবে তার প্রভাব অনেক বেশি থাকবে। তার পক্ষে জোরালো প্রচারণা চালিয়েছিলেন প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট দলীয় সংখ্যালঘু নেতা হাকিম জেফরিস।
নির্বাচনী প্রচারণার সময় লারসন হার্টফোর্ডের সিবিএস অধিভুক্ত চ্যানেল ডব্লিউএফএসবি-টিভিকে বলেছিলেন, "আমরা পূর্ণাঙ্গ কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে যাচ্ছি, প্রতিনিধি পরিষদের কোনো নতুন সদস্য হিসেবে সাধারণ কাজ নিয়ে বসে থাকার জন্য নয়।"
নির্বাচনী তহবিলের দিক থেকেও লারসনকে ছাড়িয়ে গেছেন ব্রোনিন। প্রাইমারি লড়াইয়ে ব্রোনিন সংগ্রহ করেন ৩০ লাখ ডলারের বেশি অর্থ, যেখানে লারসন সংগ্রহ করেছিলেন ২৭ লাখ ডলার। প্রাইমারিতে এই জয়ের পর ব্রোনিন এবার সাধারণ নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী অ্যামি চাই-এর মুখোমুখি হবেন, যিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নিজ দলের মনোনয়ন পেয়েছেন।

