যুক্তরাষ্ট্রে সাইলেন্সার, শটগান এবং নির্দিষ্ট কিছু রাইফেল বিক্রির ওপর থেকে উঠে গেল সরকারি নিবন্ধন বা রেজিস্ট্রেশনের কড়াকড়ি। টেক্সাসের এক ফেডারেল বিচারকের দেওয়া রায় স্থগিত করার আবেদন জানায়নি ট্রাম্প প্রশাসনের বিচার বিভাগ (ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস)। এর ফলে নির্দিষ্ট কিছু মার্কিন নাগরিক এখন কোনো ধরনের সরকারি নিবন্ধন ছাড়াই এসব মারণাস্ত্র ও সরঞ্জাম নিজেদের কাছে রাখতে পারবেন।
টেক্সাসের নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টের ইউএস ডিস্ট্রিক্ট জাজ জেমস ওয়েসলি হেনড্রিক্স গত ৫ আগস্ট এই রায় ঘোষণা করেছিলেন। রায়টি কার্যকর হওয়া ঠেকাতে বিচার বিভাগকে স্থগিতাদেশ চাওয়ার জন্য এক সপ্তাহের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল, যার মেয়াদ গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে শেষ হয়েছে। তবে বিচার বিভাগ চাইলে এখনো এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবে। বিচার বিভাগের একজন মুখপাত্র সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, "ডিপার্টমেন্ট আমেরিকানদের দ্বিতীয় সংশোধনী (সেকেন্ড অ্যামেন্ডমেন্ট) অধিকারকে সম্মান করে এবং বর্তমানে আদালতের এই রায়ের প্রভাব মূল্যায়ন করছে।"
সরকারের এই নিষ্ক্রিয়তার তীব্র সমালোচনা করেছে গান-কন্ট্রোল বা অস্ত্র নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠীগুলো। অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক সংগঠন ‘ব্র্যাডি’-র প্রেসিডেন্ট ক্রিস ব্রাউন বলেন, "আজ আমাদের সরকার আমাদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। মধ্যরাত থেকে সাইলেন্সার, শর্ট-ব্যারেলড রাইফেল এবং শটগানের মতো মারাত্মক প্রাণঘাতী অস্ত্র ও সরঞ্জাম প্রায় এক শতাব্দীর মধ্যে প্রথমবারের মতো নিয়ন্ত্রণমুক্ত হয়ে গেল।"
অপর এক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ গোষ্ঠী ‘গিফোর্ডস’-এর নির্বাহী পরিচালক এমা ব্রাউন সরকারের এই সিদ্ধান্তকে জননিরাপত্তা রক্ষায় ব্যর্থতা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, "প্রায় ১০০ বছর আগে কংগ্রেস এই সুরক্ষাকবচগুলো তৈরি করেছিল। ফলে সাইলেন্সার ও ছোট শটগান অপরাধমূলক কাজে খুব কমই ব্যবহৃত হতো। কিন্তু এখন এই বিপজ্জনক অস্ত্রগুলো সহজেই ভুল হাতে চলে যেতে পারে এবং নিরীহ মানুষের ক্ষতি করতে পারে।"
এই আইনি লড়াইয়ের সূত্রপাত হয়েছিল ২০২৫ সালে, যখন মার্কিন কংগ্রেস ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল অ্যাক্ট’ পাস করে। এই আইনের মাধ্যমে কোনো নিয়ন্ত্রিত আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি বা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে ২০০ ডলারের কর বাতিল করা হয়। কর বাতিলের এই বিষয়টিকেই বিচারক হেনড্রিক্স তার রায়ের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করেন। তিনি লেখেন, "মেশিনগান বা ধ্বংসাত্মক ডিভাইস ছাড়া অন্য যেকোনো আগ্নেয়াস্ত্রের ওপর থেকে কর প্রত্যাহারের মাধ্যমে ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল অ্যাক্ট’ মূলত ন্যাশনাল ফায়ারআর্মস অ্যাক্ট (এনএফএ)-এর সাংবিধানিক ভিত্তিকেই বাতিল করে দিয়েছে।"
টেক্সাসে দায়ের করা দুটি পৃথক মামলা একত্রিত করে এই রায় দেওয়া হয়েছে। প্রথম মামলাটিতে বাদী ছিল বিঅ্যান্ডটি ইউএসএ (B&T USA), ফায়ারআর্মস রেগুলেটরি অ্যাকাউন্টেবিলিটি কোয়ালিশন, গান ওনার্স ফাউন্ডেশন, গান ওনার্স অব আমেরিকা, পালমেটো স্টেট আর্মরি, সাইলেন্সারকো ওয়েপনস রিসার্চ, সাইলেন্সার শপ ফাউন্ডেশন, ১৫টি রিপাবলিকান শাসিত অঙ্গরাজ্য এবং কয়েকজন ব্যক্তি। দ্বিতীয় মামলাটি দায়ের করেছিল টেক্সাস স্টেট রাইফেল অ্যাসোসিয়েশন (যা এনআরএ-র টেক্সাস শাখা), সিটিজেনস কমিটি ফর দ্য রাইট টু কিপ অ্যান্ড বিয়ার আর্মস, এফপিসি অ্যাকশন ফাউন্ডেশন, হট শটস কাস্টম এবং আরও কয়েকজন। বিচারকের দেওয়া এই নিষেধাজ্ঞা কেবল এই দুই মামলার পক্ষগুলোর (যার মধ্যে গান ওনার্স অব আমেরিকার সকল সদস্য অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে) ওপর প্রযোজ্য হবে।
এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে ‘গান ওনার্স অব আমেরিকা’ এবং ‘সাইলেন্সার শপ’ ঘোষণা করেছে যে, তাদের দুই সদস্য ইতিমধ্যে ১৯৩৪ সালের ন্যাশনাল ফায়ারআর্মস অ্যাক্টের নিবন্ধন প্রক্রিয়া ছাড়াই বৈধভাবে সাইলেন্সার সংগ্রহ করেছেন। সংগঠনটি জানায়, "১৯৩৪ সালের ২৬ জুন এনএফএ আইন পাস হওয়ার পর এই প্রথম কোনো মার্কিন নাগরিক ফেডারেল নিবন্ধন ছাড়াই বৈধভাবে সাইলেন্সার সংগ্রহ করতে পারলেন। রাত ১২:০১ মিনিটে আমাদের এই বিজয় কার্যকর হয়েছে এবং আমরা এটিএফ (ATF) ও বিচার বিভাগকে জানিয়েছি যে আমরা ৯২ বছরের মধ্যে প্রথম অনিবন্ধিত সাইলেন্সার হস্তান্তর করতে যাচ্ছি।"
বিচার বিভাগ শেষ পর্যন্ত এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে কি না তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে নবনিযুক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ তার নিয়োগের আগে সিনেটরদের লিখিত প্রশ্নের জবাবে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছিলেন। তিনি লিখেছিলেন, "এনএফএ বাতিল বা শিথিল করা উচিত কি না, সে বিষয়ে আমি কংগ্রেসের বিচক্ষণ সিদ্ধান্তের ওপর আস্থা রাখি। বিচার বিভাগের মূল দায়িত্ব হলো এই সভার (কংগ্রেসের) পাস করা আইনের সাংবিধানিকতা রক্ষা করা।"

