ম্যাসাচুসেটসের একজন ফেডারেল বিচারক হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের দায়ের করা একটি মামলা খারিজ করে দিয়েছেন। মামলাটিতে অভিযোগ করা হয়েছিল যে, বিশ্ববিদ্যালয়টি ইহুদি এবং ইসরায়েলি শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। বিচারক রিচার্ড স্টার্নস তার চার পৃষ্ঠার আদেশে জানান, সরকার যেসব ঘটনার কথা উল্লেখ করেছে, তা 'খুবই বিচ্ছিন্ন এবং বিক্ষিপ্ত'। এ ধরনের ঘটনা ফেডারেল সিভিল রাইটস আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণের জন্য যথেষ্ট নয়।
বিচারক স্টার্নস তার পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, অভিযোগগুলো এককভাবে বা সামগ্রিকভাবে বিবেচনা করলেও এটি প্রমাণ করে না যে হার্ভার্ডে প্রাতিষ্ঠানিক কোনো অনাচার চলছে। বিচারক আরও জানান, সরকার তাদের অভিযোগে এমন কোনো ঘটনার তথ্য দিতে পারেনি যা ট্রাম্প প্রশাসন হার্ভার্ডকে সিভিল রাইটস আইনের লঙ্ঘনের বিষয়ে সতর্ক করার পর ঘটেছে। উল্লেখ্য, আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আগে এই সতর্কবার্তা দেওয়া একটি বাধ্যতামূলক প্রক্রিয়া। অভিযোগপত্রে উল্লিখিত অন্য তিনটি ঘটনা ২০২৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যবর্তী সময়ের।
চলতি বছরের মার্চ মাসে বিচার বিভাগ হার্ভার্ডের বিরুদ্ধে এই দেওয়ানি অধিকার মামলাটি দায়ের করে। এতে অভিযোগ করা হয়েছিল, ৭ অক্টোবর ২০২৩ সালে হামাসের সন্ত্রাসী হামলার পর বিশ্ববিদ্যালয়টি ইহুদি এবং ইসরায়েলি শিক্ষার্থীদের রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং তাদের প্রতি ইচ্ছাকৃত উদাসীনতা দেখিয়েছে। সরকারের দাবি ছিল, ক্যাম্পাসে ইহুদি এবং ইসরায়েলি শিক্ষার্থীদের হয়রানির শিকার হতে হয়েছে, যা জাতি বা জাতীয়তার ভিত্তিতে বৈষম্যের শামিল। ট্রাম্প প্রশাসন এই মামলার মাধ্যমে হার্ভার্ডকে দেওয়া কয়েক বিলিয়ন ডলারের সরকারি অনুদান বাতিলের চেষ্টা করছিল।
বিচার বিভাগের এক মুখপাত্র এই রায়ের সাথে দ্বিমত পোষণ করে জানিয়েছেন যে, তারা পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়টি মূল্যায়ন করছেন। একই সাথে তারা জানিয়েছে, বিচার বিভাগের সিভিল রাইটস ডিভিশন ইহুদিবিদ্বেষ নিয়ে একটি তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। তবে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় বা হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

