পেশাগত জীবনে দীর্ঘ ৩০ বছর সিভিল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করার সময় অ্যান্ড্রু গেলডার্টকে নিয়মিত নীল ও ধূসর রঙের পোশাকে অভ্যস্ত থাকতে হতো। ৬৫ বছর বয়সী এই মানুষটি ৫৫ বছর বয়সে অবসরে গিয়ে স্ত্রী লিনের সাথে কর্নওয়ালের বুডে শহরে স্থায়ী হন। বুডের উজ্জ্বল রোদ এবং সেখানকার বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ তাকে নিজের মতো করে বাঁচার সাহস জোগায়।
দশ বছর আগে ‘প্রাইমরোজ’ নামের একটি ক্যাম্পার ভ্যান কেনার পর থেকেই তার হলুদ রঙের প্রতি আগ্রহের সূচনা। শুরুতে উপহার হিসেবে পাওয়া হলুদ রঙের বিভিন্ন অনুষঙ্গ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি এখন প্রতিদিনের পোশাকে হলুদ রঙকে সঙ্গী করেছেন। ক্যাপ থেকে শুরু করে জুতো—সবকিছুতেই তার পছন্দ উজ্জ্বল সূর্যমুখী হলুদ। তবে তিনি জানান, সবসময় যে মাথা থেকে পা পর্যন্ত হলুদ পরেন তা নয়, পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করেই পোশাক নির্বাচন করেন।
গেলডার্টের মতে, হলুদ রঙ কেবল ফ্যাশন নয়, এটি মানুষের সাথে সংযোগ স্থাপনের একটি মাধ্যম। তিনি বলেন, 'আমি সবসময় ফুল ব্যানানা বা পুরোপুরি হলুদ সেজে থাকি না। তবে কোনো বন্ধুর শেষকৃত্যে আমি হলুদ পরেই যাই, কারণ এটি আমার পরিচিতি এবং আমি তাদের সম্মান জানাতে চাই।' এমনকি চার্চ লিডার ও ফুড ব্যাংকের স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করার সময়ও তিনি এই রঙের মাধ্যমে মানুষের সাথে সহজ সম্পর্ক গড়ে তোলেন। যখন তিনি সাধারণ বেইজ রঙের পোশাকে থাকেন, তখন ভিড়ের মাঝে মিশে গিয়ে মানুষের প্রকৃত চাহিদাগুলো বোঝার সুযোগ পান।
তার নাতি-নাতনিদের কাছেও এই হলুদ পোশাক এক বিশেষ পরিচয়। ভিড়ের মাঝে তাকে সহজেই খুঁজে পেতে হলুদ রঙ সাহায্য করে। গেলডার্ট বিশ্বাস করেন, এই উজ্জ্বল রঙের মাধ্যমে তিনি মানুষের মাঝে ভালোবাসা ছড়াতে পারেন। তার হলুদ চশমা প্রায়ই অপরিচিতদের সাথে কথা বলার দরজা খুলে দেয়। অনেকে তার চশমার প্রশংসা করে আলাপ শুরু করেন, যা একাকীত্বে ভোগা মানুষের সাথে যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করে দেয়।
কখনও কখনও তার ভেতরের সেই পুরোনো প্রকৌশলী সত্তা প্রশ্ন তোলে, 'আমি কি একটু বেশিই করছি?' তবে ডেভিড হকনির হলুদ চশমা পরা ছবি দেখে তিনি আশ্বস্ত হন যে, তিনি হাস্যকর কিছু করছেন না। তিনি চান অন্যদেরও বক্সের বাইরে বেরিয়ে আসার সাহস দিতে। যদিও মাঝে মাঝে লাল বা সবুজ রঙের কথা ভাবেন, তবে হলুদ তার ব্যক্তিত্বের সাথে এখন এমনভাবে মিশে গেছে যে, আপাতত এটিই তার প্রধান পছন্দ।

