ফ্রান্সের দাবানল পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের সমালোচনা ও স্থানীয় বাসিন্দাদের তোপের মুখে পড়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকোর্নু। সোমবার দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্রান্সের লে পরজ এলাকায় পরিদর্শনে গেলে তাকে ঘিরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয়রা। এর আগে জিরোন্দ ও লান্দ অঞ্চলে ভয়াবহ দাবানলে ১৮৩টি ঘরবাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
লে পরজ টাউন হলে প্রায় ২০০ জন স্থানীয় বাসিন্দা সমবেত হয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তাদের সাথে দেখা না করার অভিযোগ তোলেন। এ সময় সেখানে দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন ছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, দাবানল মোকাবিলার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার অভাব ছিল। একজন বাসিন্দা ফ্রান্সের বিএফএম নিউজকে জানান, তারা জানতে চান কেন দাবানল ব্যবস্থাপনায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল এবং কেন দমকল কর্মীদের বড় অংশকে ফেরতের দিকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় দাবি করেছে, দাবানল মোকাবিলায় তাদের কোনো কিছু লুকানোর নেই। ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দারা অভিযোগ দায়েরের পরিকল্পনা করছেন বলেও জানা গেছে।
প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকোর্নু জিরোন্দ এবং লান্দ অঞ্চলের জন্য ১২ মিলিয়ন ইউরো সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন, যার মধ্যে ১০ মিলিয়ন ইউরো (৮.৫ মিলিয়ন পাউন্ড) জিরোন্দের জন্য এবং ২ মিলিয়ন ইউরো (১.৭ মিলিয়ন পাউন্ড) লান্দ অঞ্চলের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, এই অর্থ স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে দ্রুত পুনরুদ্ধার প্রকল্প হাতে নিতে সহায়তা করবে। এছাড়াও, আগুনে ধ্বংস হওয়া বাড়িগুলোর পুনর্নির্মাণের জন্য এক মাসের মধ্যে অনুমতিপত্র দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
ইউরোপের অন্যান্য দেশেও দাবানলের প্রভাব অব্যাহত রয়েছে। বেলজিয়ামের হাইত ফানেস প্রকৃতি সংরক্ষণ এলাকায় দাবানল নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক সহায়তা পাঠানো হয়েছে; কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই দাবানল ২৪ ঘণ্টায় দ্বিগুণ আকার ধারণ করেছে এবং এটি বেলজিয়ামের সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম বড় অগ্নিকাণ্ড। অন্যদিকে গ্রিসের ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে ৪১টি দাবানলের ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে তিনটি এখনো নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে। স্পেনের আরাগন অঞ্চলে দাবানল নেভাতে ফ্রান্স থেকে ১০৪ জন দমকলকর্মী ও ৩৬টি গাড়ি পাঠানো হয়েছে, যেখানে প্রায় ১৬,০০০ হেক্টর জমি পুড়ে গেছে। এছাড়া ক্রোয়েশিয়ার জাদারেও দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে, যা দেশটির ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং সেখানে ১,২০০ জন বাসিন্দা ও পর্যটককে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ইউরোপের জলবায়ু পর্যবেক্ষণ সংস্থা কোপার্নিকাস জানিয়েছে, পশ্চিম ইউরোপে জুন থেকে জুলাই মাস ছিল ইতিহাসের উষ্ণতম সময়।

