আইপিএল ২০০৯ ফেমা মামলা: ললিত মোদি ও বিসিসিআই পেলেন বড় স্বস্তি

২০০৯ সালে ভারতের সাধারণ নির্বাচনের কারণে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) দ্বিতীয় আসরটি দক্ষিণ আফ্রিকায় সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় দায়ের করা ফেমা (FEMA) লঙ্ঘন মামলায় ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) এবং এর তৎকালীন কর্মকর্তাদের বড় ধরনের স্বস্তি মিলেছে। গত ১৬ জুলাই আপিল ট্রাইব্যুনাল এই মামলার রায় ঘোষণা করেছে, যেখানে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) আগের সিদ্ধান্ত হয় বাতিল করা হয়েছে, নতুবা জরিমানা কমানো হয়েছে।

তৎকালীন বিসিসিআই সেক্রেটারি এন শ্রীনিবাসন, কোষাধ্যক্ষ এমপি পান্ডোভ এবং আইপিএল চেয়ারম্যান ও ভাইস-প্রেসিডেন্ট ললিত মোদি এই মামলার প্রধান অভিযুক্তদের তালিকায় ছিলেন। ট্রাইব্যুনাল ললিত মোদিকে আইপিএল-২ দক্ষিণ আফ্রিকায় আয়োজন ও পরিচালনার প্রধান কারিগর হিসেবে উল্লেখ করলেও, তার ওপর আরোপিত জরিমানা বাতিল করে দিয়েছে। রায়ে বলা হয়েছে, ললিত মোদির ওপর জরিমানা আরোপ করা ছিল সম্পূর্ণ ভুল এবং তাকে এমনভাবে জড়ানো হয়েছিল যার কোনো বস্তুগত ভিত্তি ছিল না। ট্রাইব্যুনাল আরও জানায়, ললিত মোদি বিসিসিআই-এর সংবিধিবদ্ধ ফেমা পরিপালনের জন্য দায়ী ছিলেন না।

রায়টি স্বাগত জানিয়ে ললিত মোদি বলেন, ট্রাইব্যুনাল ইডি-র মামলার মূল ভিত্তিই খারিজ করে দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকায় আইপিএল আয়োজনের মূল বৈদেশিক রেমিট্যান্স ছিল কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ট্রানজ্যাকশন, ক্যাপিটাল অ্যাকাউন্ট নয়। দীর্ঘ ১৬ বছর পর এই আইনি জয়কে তিনি নিজের সততার প্রমাণ হিসেবে দেখছেন। তিনি জানান, সেই সময় দেশের বাইরে টুর্নামেন্ট সরিয়ে নেওয়া ছাড়া কোনো উপায় ছিল না এবং তার এই সিদ্ধান্তই আইপিএলকে একটি মূল্যবান বৈশ্বিক স্পোর্টিং প্রপার্টি হিসেবে টিকিয়ে রেখেছিল। ২০১৮ সালের ৩১ মে দেওয়া আদেশে ১১টি কারণ দর্শানোর নোটিশের মধ্যে ৬টিতে মোদির ওপর মোট ১০.৬৫ কোটি টাকার জরিমানা করা হয়েছিল, যা এখন খারিজ হলো।

অন্যান্য কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রেও ট্রাইব্যুনাল জরিমানা হ্রাস করেছে। এন শ্রীনিবাসনের ১ কোটি টাকার জরিমানা কমিয়ে ১০ লক্ষ টাকা এবং এমপি পান্ডোভের ৫০ লক্ষ টাকার জরিমানা কমিয়ে ৫ লক্ষ টাকা করা হয়েছে। বিসিসিআই-এর ওপর আরোপিত ৪ কোটি টাকার জরিমানা কমিয়ে ১ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে অন্য একটি মামলায় শ্রীনিবাসন ও পান্ডোভের প্রত্যেকের ওপর আরোপিত ৫০ লক্ষ টাকার জরিমানার বিষয়ে ট্রাইব্যুনাল কোনো হস্তক্ষেপ করেনি, কারণ তারা বিসিসিআই-এর ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন। বিসিসিআই ও কর্মকর্তারা দাবি করেছিলেন যে, কোনো ত্রুটি হয়ে থাকলে তা আইনি অজ্ঞতার কারণে হয়েছে, কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে নয়।

Related posts