যুক্তরাজ্যের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড বিমান ঘাঁটির কাছে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির সন্দেহে গ্রেপ্তার হওয়া ২৫ বছর বয়সী এক ব্রিটিশ-ইরানি দ্বৈত নাগরিককে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং বর্তমানে ওই এলাকায় সংশ্লিষ্ট দুটি বাড়িতে তল্লাশি অভিযান সমাপ্ত হয়েছে।
গত সপ্তাহান্তে গ্লুচেস্টারশায়ারে অবস্থিত মার্কিন বিমান বাহিনীর এই ঘাঁটির কাছে তিনটি 'সন্দেহভাজন যানবাহন' দেখতে পাওয়ার পর পুলিশ বড় ধরনের নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছিল। ওই ঘটনার জেরে স্থানীয় ডজনখানেক বাড়ি খালি করা হয়। এই একই ঘটনায় এর আগে লন্ডনের বাসিন্দা ২৩ থেকে ২৫ বছর বয়সী আরও পাঁচজন ব্রিটিশ নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, যাদের পরবর্তীতে পুলিশি জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
তদন্তের বিষয়ে পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি নিয়ে তাদের অনুসন্ধান এখনো চলমান রয়েছে। ঘটনার দিন ভোরে যানবাহনগুলো ঘাঁটির দিকে যাওয়ার সময় ওই পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। বিবিসি-র তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার হওয়ার প্রায় এক ঘণ্টা আগে তাদের মধ্যে একজন নিজেই ৯৯৯ নম্বরে কল করেছিলেন। এর কিছুক্ষণ পরই একজন স্থানীয় কৃষক ঘাঁটির কাছে মুখোশধারী একদল লোককে যানবাহনগুলোর আশেপাশে দেখতে পেয়ে পুলিশকে সতর্ক করেন।
প্রাথমিকভাবে বিস্ফোরক দ্রব্য রাখার সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হলেও পরে তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির অভিযোগ আনা হয়। সোমবার তাদের জামিনে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্তটিকে পুলিশ একটি 'তদন্তমূলক সিদ্ধান্ত' হিসেবে বর্ণনা করেছে, যা তাদের অভিজ্ঞতা ও কৌশলের ওপর ভিত্তি করে নেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নাম একটি কোবরা বৈঠক করেছিলেন। তিনি পরবর্তীতে জানিয়েছিলেন যে, এই ঘটনার পেছনে ইরানের সম্পৃক্ততার 'শক্তিশালী ইঙ্গিত' রয়েছে, তবে তিনি বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেননি। এদিকে তেহরান এই অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। লন্ডনে অবস্থিত ইরান দূতাবাস সোমবার এক বিবৃতিতে এই ঘটনাকে 'ভিত্তিহীন ও বিদ্বেষপূর্ণ জল্পনা' বলে অভিহিত করে তা তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

