২০০৩ সালের তুমুল জনপ্রিয় রোমান্টিক কমেডি সিনেমা ‘হাউ টু লুজ এ গাই ইন টেন ডেইজ’ (How to Lose a Guy in 10 Days) অবশেষে দীর্ঘ সময় পর সিক্যুয়েল বা দ্বিতীয় কিস্তি নিয়ে ফিরছে। প্যারামাউন্ট পিকচার্সের অধীনে সিনেমাটির সিক্যুয়েল তৈরির প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে বলে এই প্রকল্প সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। তবে বিষয়টি নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ খোলেনি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানটি।
মূল সিনেমায় জুটি বেঁধে অভিনয় করেছিলেন অস্কার মনোনীত অভিনেত্রী কেট হাডসন এবং অস্কারজয়ী অভিনেতা ম্যাথিউ ম্যাককনেহি। নতুন এই সিক্যুয়েলে কেট হাডসন প্রযোজক হিসেবে যুক্ত হচ্ছেন, যা মূল ছবিতে তিনি ছিলেন না। তবে হাডসন ও ম্যাককনেহি দুজনেই তাদের আগের চরিত্রে অভিনয় করবেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বর্তমানে হাডসন নেটফ্লিক্সের কমেডি সিরিজ ‘রানিং পয়েন্ট’-এর নির্বাহী প্রযোজক হিসেবে কাজ করছেন এবং এর আগে ২০০৯ সালে তার অভিনীত ‘ব্রাইড ওয়ার্স’ সিনেমাটিও তিনি প্রযোজনা করেছিলেন। এই সিক্যুয়েল নিয়ে জানতে প্যারামাউন্ট, হাডসন এবং ম্যাককনেহির প্রতিনিধিদের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে।
২০০৩ সালে মুক্তি পাওয়া মূল সিনেমাটিতে হাডসন একজন ম্যাগাজিন লেখকের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন, যিনি একটি কলামের জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে এমন সব আচরণ করেন যা সাধারণত নারীরা সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভুল হিসেবে করে থাকেন, যাতে পুরুষটিকে দূরে ঠেলে দেওয়া যায়। অন্যদিকে, ম্যাককনেহি অভিনয় করেছিলেন একজন বিজ্ঞাপন কর্মকর্তার চরিত্রে, যিনি বাজি ধরেন যে তিনি খুব দ্রুত যেকোনো নারীকে নিজের প্রেমে ফেলতে পারবেন। মুক্তির পর মিশ্র প্রতিক্রিয়া পেলেও বক্স অফিসে দারুণ সাফল্য পেয়েছিল ছবিটি।
চলতি বছরের এপ্রিলে নিজের সিরিজ ‘রানিং পয়েন্ট’-এর দ্বিতীয় সিজনে এই সিনেমার একটি রেফারেন্স আসার পর এক সাক্ষাৎকারে সিক্যুয়েলের আভাস দিয়েছিলেন হাডসন। তিনি বলেছিলেন, “সঠিক পরিস্থিতি হলে এটি হতেই পারে। যদি স্ক্রিপ্ট এবং গল্পে প্রবেশের পথটা ঠিকঠাক থাকে, তবে আমি অবশ্যই এতে রাজি হব। তবে এই মুহূর্তে তেমন কিছু হচ্ছে না।”
নব্বইয়ের দশকের শেষভাগ এবং ২০০০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ের জনপ্রিয় কমেডি সিনেমাগুলোর সিক্যুয়েল তৈরির যে হিড়িক হলিউডে পড়েছে, তারই অংশ হিসেবে এই নতুন উদ্যোগ। গত মে মাসে প্রায় ২০ বছর পর আসা ‘দ্য ডেভিল উইয়ার্স প্রাডা ২’ বিশ্বজুড়ে প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ডলার আয় করে বক্স অফিসে ঝড় তোলে, যা ২০০৬ সালের মূল সিনেমার আয়ের প্রায় দ্বিগুণ। এছাড়া ২০২৫ সালে মুক্তি পাওয়া ‘ফ্রিকি ফ্রাইডে’-র সিক্যুয়েল ‘ফ্রিকিয়ার ফ্রাইডে’ বিশ্বজুড়ে ১৫৩ মিলিয়ন ডলার আয় করে মাঝারি সাফল্য পায়।
‘হাউ টু লুজ এ গাই ইন টেন ডেইজ’ নিয়ে দর্শকদের মাঝে এখনো যে গভীর ভালোবাসা রয়েছে, তার প্রমাণ দিয়েছেন খোদ ম্যাথিউ ম্যাককনেহি। গত আগস্টে ‘হ্যাপি স্যাড কনফিউজড’ পডকাস্টে এই অস্কারজয়ী অভিনেতা প্রকাশ করেন যে, প্রতি বছর ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবসকে কেন্দ্র করে সিনেমাটির জনপ্রিয়তা বেড়ে যাওয়ার কারণে তার ক্যারিয়ারের অন্যান্য সব সিনেমার চেয়ে এই ছবি থেকেই তিনি এখনো সবচেয়ে বেশি অর্থ উপার্জন করেন। তিনি বলেন, “যখন ডিভিডি বা ক্যাবলের যুগ ছিল, প্রতি মার্চে আমি একটি বড় অঙ্কের চেক পেতাম, কারণ তার ঠিক আগেই ভালোবাসা দিবস যেত।” এই সিনেমাটিকে নিজের ক্যারিয়ারের অন্যতম প্রিয় রোমান্টিক কমেডি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বর্তমানে হলিউডে আরও বেশ কয়েকটি পুরোনো জনপ্রিয় সিনেমার সিক্যুয়েল তৈরির কাজ চলছে। এর মধ্যে রয়েছে স্যান্ড্রা বুলক ও নিকোল কিডম্যান অভিনীত ‘প্র্যাক্টিক্যাল ম্যাজিক ২’, ১৯৯৭ সালের ‘রোমি অ্যান্ড মিশেলস হাই স্কুল রিইউনিয়ন’-এর সিক্যুয়েল (যাতে মিরা সরভিনো ও লিসা কুড্রো ফিরছেন), এবং আগামী নভেম্বরে মুক্তি পেতে যাওয়া ‘মিট দ্য প্যারেন্টস’ ফ্র্যাঞ্চাইজির চতুর্থ সিনেমা। এছাড়া ২০২৫ সালে জানা যায় যে, ‘পাস্ট লাইভস’ খ্যাত পরিচালক সেলিন সং ১৯৯৭ সালের জুলিয়া রবার্টসের জনপ্রিয় ছবি ‘মাই বেস্ট ফ্রেন্ডস ওয়েডিং’-এর সিক্যুয়েল নিয়ে কাজ করছেন। অথচ এই সময়ে এসে মৌলিক বা নতুন রোমান্টিক কমেডি সিনেমাগুলো প্রেক্ষাগৃহে বেশ ধুঁকছে, যার প্রমাণ চলতি বছর মুক্তি পাওয়া ‘ওয়ান নাইট অনলি’ এবং ‘ইউ, মি অ্যান্ড টাস্কানি’ সিনেমা দুটির বক্স অফিসে আশানুরূপ ব্যবসা করতে না পারা।
