মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) গভর্নর লিসা কুক তার বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের আনা বন্ধকী জালিয়াতির অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন। তাকে বরখাস্ত করার বিষয়ে হোয়াইট হাউসের হুমকির জবাবে কুকের আইনজীবী এক চিঠিতে জানিয়েছেন যে, তিনি "কখনোই কোনো বন্ধকী জালিয়াতি করেননি"।
হোয়াইট হাউসে পাঠানো এক চিঠিতে কুকের আইনজীবী অ্যাবে লোয়েল বলেন, ফেডারেল হাউজিং ফাইন্যান্স এজেন্সির প্রধান বিল পুল্টের করা অভিযোগের ভিত্তিতে কুককে বরখাস্ত করার চেষ্টা করা হলে তা "তথ্য ও আইনকে উপেক্ষা করা" হবে। হোয়াইট হাউসের কাউন্সেল ডেভিড ওয়ারিংটনকে লোয়েল জানান, কুকের বিরুদ্ধে আনা এসব দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য। তিনি জোর দিয়ে বলেন, গভর্নর কুক কখনো কোনো বন্ধকী জালিয়াতি বা ইচ্ছাকৃত অন্যায় করেননি এবং তাকে ফেডারেল রিজার্ভ বোর্ড থেকে অপসারণের কোনো আইনি কারণ নেই।
ফেডারেল আইন অনুযায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট কেবল উপযুক্ত "কারণ দর্শানো" (for cause) সাপেক্ষে ফেড গভর্নরদের অপসারণ করতে পারেন। লিসা কুক তার অপসারণের এই প্রচেষ্টাকে চ্যালেঞ্জ করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। গত জুনে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ৫-৪ ব্যবধানে দেওয়া এক রায়ে কুককে তার পদে বহাল থেকে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেয়। সর্বোচ্চ আদালত জানায়, বরখাস্তের আগে অভিযোগের বিষয়ে নোটিশ পাওয়া এবং জবাব দেওয়ার অধিকার কুকের রয়েছে, যা তাকে দেওয়া হয়নি। তবে এই রায়ের কয়েক সপ্তাহ পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কুককে অপসারণের নতুন উদ্যোগ নেন। গত ৫ আগস্ট হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে পাঠানো এক চিঠিতে জানানো হয় যে, বন্ধকী জালিয়াতির অভিযোগের কারণে তাকে বরখাস্ত করার কথা ভাবছেন প্রেসিডেন্ট। অভিযোগের জবাব দেওয়ার জন্য ২৬ আগস্ট পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল।
হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ ড্যান স্কাভিনো অভিযোগ করেন যে, কুক আটলান্টার একটি কনডমিনিয়ামকে তার "প্রধান" বাসস্থান হিসেবে দেখিয়ে বন্ধকী চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিলেন, অথচ তিনি মিশিগানের অ্যান আর্বারের বাড়িটিকেও একইভাবে প্রধান বাসস্থান হিসেবে দেখিয়েছিলেন। এছাড়া, চুক্তি স্বাক্ষরের ১৪ মাস পর তিনি আটলান্টার সম্পত্তিটি ভাড়ার জন্য তালিকাভুক্ত করলেও ২০২২ ও ২০২৩ সালের আর্থিক বিবরণীতে কোনো ভাড়া বাবদ আয়ের তথ্য প্রকাশ করেননি। স্কাভিনো চিঠিতে লেখেন, আর্থিক বিষয়ে সততা ও বিশ্বস্ততার সাথে ফেড গভর্নরের দায়িত্ব পালনের একটি সুনির্দিষ্ট সম্পর্ক রয়েছে এবং এই অভিযোগগুলো কুকের সততা ও যোগ্যতার ওপর প্রশ্ন তোলে।
তবে এই অভিযোগের জবাবে আইনজীবী লোয়েল বলেন, ঋণদাতার দেওয়া ফর্মে "প্রধান" বাসস্থান হিসেবে স্বাক্ষর করাটি ছিল একটি অসাবধানতাবশত ভুল। কুক সবসময়ই তার নথিপত্রে মিশিগানের বাড়িটিকে প্রধান বাসস্থান হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং আটলান্টার সম্পত্তিটি যে তার "দ্বিতীয় বাড়ি" (2nd home) ছিল, তা ঋণদাতাকে নিশ্চিত করেছিলেন। তিনি যুক্তি দেন, আটলান্টার বন্ধকটিকে প্রধান নাকি দ্বিতীয় হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হবে তা নির্ধারণ করার এখতিয়ার ঋণদাতারই ছিল। তাছাড়া, কুক কোনো সম্পত্তি থেকে বাড়তি বা বিশেষ সুদের সুবিধা পাননি। ভাড়া সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে লোয়েল জানান, কুক সাময়িকভাবে আটলান্টার ফ্ল্যাটটি ভাড়ার তালিকাভুক্ত করলেও পরে তা ভাড়া না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, যার ফলে কোনো আয়ের তথ্য দেওয়ার প্রয়োজন ছিল না।
লোয়েল আরও অভিযোগ করেন যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং তার মন্ত্রিসভার সদস্য—যেমন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট এবং অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ—নিজেদের বন্ধকী নথিতে দুটি সম্পত্তিকে "প্রধান" বাসস্থান হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ট্রাম্প কেন কেবল লিসা কুককেই নিশানা করছেন। কুকের আরেক আইনজীবী নর্ম আইজেন এক বিবৃতিতে জানান, কুককে বরখাস্ত করার যেকোনো অবৈধ পদক্ষেপের বিরুদ্ধে তারা আবারও আদালতে যেতে প্রস্তুত। সমালোচকদের মতে, ট্রাম্প কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর নিজের নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে কুককে অপসারণের চেষ্টা করছেন, যা ফেডের স্বাধীনতাকে হুমকির মুখে ফেলছে। এর আগে ট্রাম্প সাবেক চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলেরও সমালোচনা করেছিলেন এবং গত মে মাসে ট্রাম্পের মনোনীত ওয়ারশ ফেডের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেন।
August 27, 2026 / 11:40 AM EDT / CBS News

