লর্ডস টেস্টের প্রথম দিনে মোহাম্মদ আব্বাস ও মোহাম্মদ আলীর দারুণ বোলিংয়ে চালকের আসনে বসেছে পাকিস্তান। বৃষ্টির কারণে প্রথম সেশনের বড় অংশ ভেস্তে গেলেও মেঘলা আকাশের সুবিধা নিয়ে টস জিতে প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন পাকিস্তানের প্রত্যাবর্তনকারী অধিনায়ক বাবর আজম। আর অধিনায়কের এই সিদ্ধান্তের প্রতি পূর্ণ মর্যাদা দিয়ে শুরুতেই ইংল্যান্ডের ব্যাটিং লাইনে ধস নামান আব্বাস, যা পরবর্তীতে ধরে রাখেন আলী। প্রথম দিন শেষে ৫৬ ওভার খেলে ৯ উইকেটে ২৪৮ রান তুলেছে স্বাগতিক ইংল্যান্ড।
ম্যাচের শুরু থেকেই সুইং ও লেন্থের দারুণ প্রদর্শনী দেখান আব্বাস. ইনিংসের পঞ্চম ওভারেই প্রথম উইকেটের দেখা পায় পাকিস্তান। এমিলিও গে-কে লেগ সাইডে দুর্দান্ত এক ক্যাচে পরিণত করেন উইকেটরক্ষক মোহাম্মদ রিজওয়ান। এর দুই ওভার পরই বেন ডাকেটকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন আব্বাস। রিভিউ নিয়ে পাওয়া এই উইকেটটি ছিল আব্বাসের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৯০০তম উইকেট। এরপর নিজের ২৫তম লর্ডস টেস্ট খেলতে নামা জো রুটকে ইন-ডিপার ডেলিভারিতে প্যাভিলিয়নের পথ দেখান তিনি।
প্রথম ১০ ওভারে পাকিস্তানের পেসাররা ইংলিশ ব্যাটারদের কাছ থেকে ১৯টি ভুল শট আদায় করে নেন। সেখান থেকে ইংল্যান্ডের ব্যাটারদের কঠিন পরীক্ষা দিতে হলেও পরবর্তী ১৩ ওভার তারা আর কোনো উইকেট হারায়নি।
হ্যারি ব্রুককে সঙ্গী করে জর্ডান কক্স ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে খেলা শুরু করেন এবং মধ্যাহ্নভোজের ঠিক আগে ২৯ বলে দ্রুত ২৭ রান তোলেন। তবে মধ্যাহ্নভোজের ঠিক আগে হ্যারি ব্রুককে চমৎকার এক ডেলিভারিতে বোল্ড করে প্রথম সেশনের সমাপ্তি টানেন মোহাম্মদ আলী।
শুরুর ধাক্কা সামলে ইংল্যান্ডকে লড়াইয়ে ফেরানোর চেষ্টা করেন জর্ডান কক্স ও ড্যান লরেন্স। এই জুটিকে কিছুটা সাহায্য করে পাকিস্তানের করা বেশ কয়েকটি নো-বল এবং শান মাসুদের একটি ক্যাচ মিস। তবে শেষ পর্যন্ত লরেন্স রানআউট হলে এই প্রতিরোধ ভেঙে যায়। এরপর ক্রিজে আসা জেমি স্মিথকে সঙ্গী করে রান বাড়াতে থাকেন কক্স। স্মিথ ব্যক্তিগত ১৯ রানে রিজওয়ানের হাতে জীবন পান, যা বোলার আলীকে বেশ ক্ষুব্ধ করে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে স্মিথ দ্রুত গতিতে রান তুলতে থাকেন এবং এক পর্যায়ে ১৫ বলের ব্যবধানে ৬টি চার মারে ইংল্যান্ড। চা-বিরতির সময় কক্স ধীরগতির হয়ে পড়লেও স্মিথ ৪৪ রানে অপরাজিত ছিলেন।
কক্স ৫৫ রানে আউট হওয়ার আগে গাস অ্যাটকিনসনের সাথে মিলে বেশ কয়েকটি বাউন্ডারি হাঁকান। তবে বদলি ফিল্ডার সালমান আগার এক অসাধারণ ক্যাচে কক্স বিদায় নেওয়ার পর মোহাম্মদ আলী এক ওভারে দুই উইকেট নিয়ে পাকিস্তানকে ম্যাচে ফেরান। প্রথমে তিনি ৬১ রান করা জেমি স্মিথকে বোল্ড করেন এবং দুই বল পর ওলি রবিনসনকে বোল্ড করেন। এর দুই ওভার পর আব্বাস আবার আক্রমণে এসে জফরা আর্চারকে বোল্ড করেন, যিনি এর আগে আলী উসমানের বলে একটি ছক্কা মেরেছিলেন। শেষ পর্যন্ত আলো স্বল্পতার কারণে দিনের খেলা ৫০ মিনিট আগেই বন্ধ হয়ে যায়। ইংল্যান্ডের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৯ উইকেটে ২৪৮ রান। পাকিস্তানের পক্ষে আব্বাস ৫৬ রানে ৪টি এবং আলী ৬৭ রানে ৩টি উইকেট নেন।

