এনএফএল তারকা অ্যারন রজার্স ক্রীড়াভিত্তিক গণমাধ্যম ইএসপিএন-এর তীব্র সমালোচনা করেছেন। নিউ ইংল্যান্ড প্যাট্রিওটস দলের কোচ মাইক ভ্রাবেল এবং ক্রীড়া সাংবাদিক ডায়ানা রুসিনির মধ্যকার কথিত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে খবর প্রকাশ না করায় তিনি এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সম্প্রতি ক্যাম হেওয়ার্ডের পডকাস্ট ‘নট জাস্ট ফুটবল’-এ অংশ নিয়ে রজার্স ইএসপিএন-কে একটি ‘মেরুদণ্ডহীন’ প্রতিষ্ঠান হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন এবং তাদের ‘দ্বিমুখী নীতি’র সমালোচনা করেছেন।
রজার্স অভিযোগ করেন যে, ইএসপিএন এই স্পর্শকাতর বিষয়টি এড়িয়ে গেলেও সান ফ্রান্সিসকো ফোর্টিনাইনার্সের মালিক জেদ ইয়র্কের গ্রেপ্তারের খবরটিকে তাদের ওয়েবসাইটের প্রধান সংবাদ হিসেবে প্রচার করেছে। ওহাইওতে ১৪০ ডলারের বিনিময়ে যৌনকর্মী ভাড়া করার অভিযোগে জেদ ইয়র্ককে পুলিশ আটক করার পর ইএসপিএন সেটিকে তাদের মূল পাতায় দীর্ঘ সময় ধরে প্রদর্শন করে। রজার্স প্রশ্ন তোলেন, কেন ইএসপিএন জেদ ইয়র্ককে এভাবে সবার সামনে হেনস্তা করতে চাইল, অথচ ডায়ানা রুসিনির মতো একজন প্রভাবশালী প্রতিবেদকের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে সম্পূর্ণ নীরবতা বজায় রাখল।
পডকাস্টে রজার্স আরও প্রশ্ন তোলেন, মাইক ভ্রাবেলের সাথে ডায়ানা রুসিনির এই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিউ ইংল্যান্ড প্যাট্রিওটস দল সংক্রান্ত খবর প্রকাশের ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব ফেলছে কি না। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, রুসিনির মতো সাংবাদিকদের এমভিপি বা ‘কোচ অব দ্য ইয়ার’ নির্বাচনের ক্ষেত্রে ভোট দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। এমনকি তিনি হল অব ফেমের ভোটার তালিকায় আছেন কি না তাও নিশ্চিত নয়। মর্গান মোজেসের নিউ ইয়র্ক জেটস থেকে নিউ ইংল্যান্ডে যোগ দেওয়ার খবরটি একদিন আগেই ফাঁস হয়ে যাওয়ার ঘটনা উল্লেখ করে রজার্স প্রশ্ন তোলেন, এভাবে দলের ভেতরের আর কত তথ্য গোপনে আদান-প্রদান করা হয়েছে।
রজার্স বলেন, "আমি জানি না (সময়: ২৫:১৭)।" এরপর তিনি প্রশ্ন তোলেন যে, মাইক ভ্রাবেলের সাথে ডায়ানা রুসিনির ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিউ ইংল্যান্ড প্যাট্রিওটসের খবর প্রকাশের ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব ফেলেছিল কি না। "কিন্তু সেটির কি কোনো প্রভাব রয়েছে?"
রজার্স বলেন, এনএফএল সবসময়ই তাদের নিজস্ব ভাবমূর্তি বা ‘শিল্ড’ রক্ষা করার চেষ্টা করে এবং তিনি সেটিকে সম্মান জানান। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন যে, এই কাজ করতে গিয়ে তাদের অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে। এর আগেও গত আগস্ট মাসে পিটসবার্গ স্টিলার্সের অনুশীলন ক্যাম্পে প্যাট ম্যাকাফির লাইভ শোতে অংশ নিয়ে রজার্স এই একই বিষয়ে ইএসপিএন-এর সমালোচনা করেছিলেন এবং অভিযোগ করেছিলেন যে তারা রুসিনি ও ভ্রাবেলকে আড়াল করার চেষ্টা করছে।
এই পডকাস্টেই অ্যারন রজার্স তার ব্যক্তিগত জীবন এবং স্ত্রী ব্রিটানির সাথে সম্পর্কের বিষয়েও কিছু তথ্য শেয়ার করেন। তিনি জানান, ২০১৭ সালে ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাসে ব্রিটানির কলেজ জীবন শেষ হওয়ার পর তাদের প্রথম দেখা হয়েছিল। এরপর ব্রিটানি ইউরোপে চলে যান এবং এক পর্যায়ে তারা দুজনেই অন্য মানুষের সাথে বাগদান সম্পন্ন করেছিলেন। রজার্স দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, সেই সময় ব্রিটানিকে থেকে যাওয়ার অনুরোধ না করা বা সরাসরি বিয়ের প্রস্তাব না দেওয়া ছিল তার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল। পরবর্তীতে তারা গোপনে বিয়ে করলেও এ বিষয়ে বিস্তারিত আর কিছু জানাতে চাননি রজার্স।

