মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য দেশগুলো আমন্ত্রণ জানালে বাংলাদেশ এই জোটে যোগ দেওয়ার বিষয়টি "ইতিবাচকভাবে" বিবেচনা করবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "চুক্তিতে যোগ দেওয়া বা না দেওয়ার বিষয়টি এখনও আসেনি, কারণ এটি চুক্তির সাথে জড়িত পক্ষগুলোর ইচ্ছার ওপর নির্ভর করছে। যদি তারা বাংলাদেশকে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানায়, তবে আমরা অবশ্যই তা ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করব।" তবে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বাংলাদেশ এর সম্ভাব্য সুবিধাগুলো মূল্যায়ন করে দেখবে বলে তিনি সংসদকে আশ্বস্ত করেন।
এই চুক্তিকে মুসলিম বিশ্বের একটি আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা হিসেবে উল্লেখ করে খলিলুর রহমান বলেন, "সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আমাদের মনে রাখতে হবে এটি (মক্কা চুক্তি) বিশ্ব মুসলিম সম্প্রদায়ের একটি আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা। এটি আমাদের মুসলিম পরিবারের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তাই এ নিয়ে অন্যদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই।"
এদিকে, জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বৃহস্পতিবার এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে জানান, মক্কা চুক্তিতে যোগ দেওয়ার বিষয়টি বাংলাদেশের নিজস্ব সিদ্ধান্ত। তিনি বলেন, "বাংলাদেশ যদি দেশ ও জাতির স্বার্থ এবং প্রয়োজনে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়, তবে তা নিয়ে অন্য কারও চিন্তিত হওয়ার প্রয়োজন নেই।"
গত ৭ আগস্ট মক্কার আল সাফা প্যালেসে অনুষ্ঠিত এক ত্রিপক্ষীয় শীর্ষ সম্মেলনে তুরস্ক, সৌদি আরব এবং পাকিস্তান এই যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে। এই চুক্তির লক্ষ্য হলো সম্মিলিত নিরাপত্তা জোরদার করা, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা গভীর করা এবং এই অঞ্চল ও তার বাইরে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। সম্মেলনে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

