যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি মার্কওয়েইন মুলিন এবং ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (ডিএইচএস) অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তাদের বহনকারী কোস্ট গার্ডের একটি জেট বিমান ইঞ্জিনের ত্রুটির কারণে ওয়াশিংটন ডিসির অদূরে জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয়েছে। বুধবার বিকেলে এই ঘটনা ঘটে।
বিমানটি একটি সি-৩৭এ মডেলের জেট, যা মূলত গালফস্ট্রিম ভি জেটের সামরিক সংস্করণ। নিয়মিতভাবে এটি কোস্ট গার্ড এবং ডিএইচএস-এর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত হয়। ঘটনার সময় বিমানটির পাইলট রোনাল্ড রিগান ওয়াশিংটন ন্যাশনাল এয়ারপোর্টের (ডিসিএ) কন্ট্রোল টাওয়ারে ইঞ্জিনের যান্ত্রিক ত্রুটির কথা জানান। এয়ারপোর্টের যোগাযোগ রেকর্ডিং অনুযায়ী, পাইলট কন্ট্রোলারদের জানান যে তাদের ডান দিকের ইঞ্জিনটি অকেজো হয়ে গেছে এবং তারা জরুরি অবতরণের ঘোষণা দিচ্ছেন। ওই সময় বিমানে ১৪ জন আরোহী ছিলেন এবং তাদের কাছে আড়াই ঘণ্টার জ্বালানি অবশিষ্ট ছিল।
অবতরণের পর বিমানটি নিরাপদে রানওয়ে থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং এয়ারপোর্ট কর্তৃপক্ষের ফায়ার ও রেসকিউ কর্মীরা বিমানটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করেন। এই ঘটনার পর মার্কওয়েইন মুলিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে জানান, কোস্ট গার্ডের পাইলটরা অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সাথে একক ইঞ্জিনের ওপর ভর করে বিমানটি অবতরণ করিয়েছেন। তিনি বলেন, পাইলটরা অবতরণের পর তাকে জানিয়েছিলেন যে তাদের ক্যারিয়ারে এটিই ছিল এমন প্রথম অভিজ্ঞতা।
ডিএইচএস অতীতে বেশ কয়েকবার তাদের পুরনো বিমান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। গত বছর বিভাগটি জানিয়েছিল যে, কোস্ট গার্ডের ব্যবহৃত বিমানটি ২২ বছরের পুরনো এবং এতে এভিওনিক্স ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের ত্রুটি রয়েছে। ২০২৫ সালের বাজেট পরিকল্পনায় পুরনো এই এক্সিকিউটিভ জেটটি পরিবর্তনের জন্য প্রায় ৫০ মিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব করা হয়েছিল, যা কংগ্রেসের শুনানিতে বিভিন্ন আইনপ্রণেতার সমালোচনার মুখে পড়ে। তৎকালীন সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোয়েম মে মাসে সিনেটের শুনানিতে দাবি করেছিলেন যে, বর্তমান বিমানটি তার ব্যবহারের সময়সীমা পার করে ফেলেছে। পরবর্তীতে অক্টোবর ২০২৫-এ কোস্ট গার্ড নতুন দুটি গালফস্ট্রিম জি৭০০ বিমান কেনার জন্য ২০০ মিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব করলে তা পুনরায় আইনপ্রণেতাদের নজরদারিতে পড়ে।

