ইউরোভিশন সংগীতা প্রতিযোগিতার আয়োজকরা একটি নতুন নিয়ম প্রবর্তন করেছেন, যার ফলে সশস্ত্র সংঘাতে জড়িত কোনো দেশ এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করতে পারবে না। বুধবার এক বিবৃতিতে ইউরোপীয় ব্রডকাস্টিং ইউনিয়ন (ইবিইউ) জানিয়েছে, যদি কোনো দেশ সশস্ত্র সংঘাত, সংবেদনশীল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি বা অন্য কোনো কারণে তাদের রাষ্ট্র বা অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়, তবে সেই জয়ী সম্প্রচারকারী সংস্থা স্বয়ংক্রিয়ভাবে আয়োজক হওয়ার অযোগ্য বলে বিবেচিত হবে।
ইবিইউ জানিয়েছে, একটি দেশ এই ইভেন্টটি নিরাপদে আয়োজন করতে সক্ষম কি না, তা নিশ্চিত করতে তারা একটি স্বাধীন নিরাপত্তা মূল্যায়ন পরিচালনা করতে পারে। কোনো দেশ আয়োজক হতে ব্যর্থ হলে, ইবিইউ অন্য একটি দেশকে আয়োজক হিসেবে নির্বাচন করবে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সেই নতুন আয়োজক দেশটি স্বাধীনভাবে উৎসবটি আয়োজন করবে এবং অন্য কোনো সদস্য দেশের হয়ে এটি মঞ্চস্থ করার প্রয়োজন হবে না।
বিবৃতিতে কোনো নির্দিষ্ট দেশের নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে ২০২৫ ও ২০২৬ সালের প্রতিযোগিতায় ইসরায়েল দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছিল। ২০২৬ সালে ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় ইসরায়েলের অংশগ্রহণের প্রতিবাদে স্পেন, আয়ারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, স্লোভেনিয়া এবং আইসল্যান্ড বয়কট করেছিল, যা প্রতিযোগিতার ইতিহাসে প্রথম ঘটনা ছিল।
এর আগে ২০১৭ সালে ইউক্রেন তাদের পূর্বাঞ্চলে চলমান সংঘাত সত্ত্বেও ইউরোভিশন আয়োজন করেছিল। তবে ২০২২ সালে ইউক্রেন জয়ী হওয়ার পর রাশিয়ার সাথে চলমান যুদ্ধের কারণে তারা পরের বছরের আসর আয়োজন করতে পারেনি। ফলে ইউক্রেনের হয়ে ২০২৩ সালের প্রতিযোগিতা যুক্তরাজ্যের লিভারপুলে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ইবিইউ-এর সদস্যরা ইউরোপের বাইরেও বিস্তৃত থাকায় এই প্রতিযোগিতা কেবল ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।

