গাজার যুদ্ধপরবর্তী রূপান্তর প্রক্রিয়ার দায়িত্বে থাকা 'বোর্ড অফ পিস'-এর প্রতিনিধি নিকোলাই ম্লাদেনভ ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তার দলের সাথে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন। শান্তি বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, আলোচনাটি ছিল অত্যন্ত গঠনমূলক এবং বিস্তারিত।
বোর্ডের বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়েছে, তাদের মূল লক্ষ্য হলো গাজা উপত্যকায় অস্ত্রশস্ত্রের সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ এবং বন্দুকের শাসনের পরিবর্তে বেসামরিক শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ম্লাদেনভ এবং তার সিনিয়র উপদেষ্টা আরিয়েহ লাইটস্টোন ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষকে গাজায় চলমান সামরিক হামলা বন্ধ করার জন্য চাপ দিচ্ছেন, যাতে হামাসের কাছে থাকা অস্ত্র হস্তান্তরের চুক্তিটি এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়।
এদিকে, হামাস সোমবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, তারা এবং ফিলিস্তিনি বিভিন্ন দল যুদ্ধবিরতি চুক্তির দ্বিতীয় পর্যায় বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতিতে অটল রয়েছে। তারা ম্লাদেনভ এবং মধ্যস্থতাকারীদের কাছ থেকে এ বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক ও স্পষ্ট প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় আছে।
চুক্তির খসড়া প্রকাশের পর ইসরায়েল তাদের গুরুতর নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা জানিয়েছে এবং তা যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ভাগ করেছে। এর মধ্যেই ইসরায়েল গাজায় হামলা জোরদার করেছে। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার রাত থেকে রবিবারের মধ্যে ইসরায়েলি হামলায় ১৭ জন নিহত হয়েছেন। তবে সোমবার গাজায় কোনো বিমান হামলার খবর পাওয়া যায়নি।
গাজা যুদ্ধবিরতি আলোচনার মধ্যস্থতাকারী দেশ মিশর, কাতার এবং তুরস্ক সোমবার এক যৌথ বিবৃতিতে ইসরায়েলি হামলার নিন্দা জানিয়েছে। তাদের মতে, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ও চিকিৎসা অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা এবং বেসামরিক হতাহতের ঘটনা আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ও আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
উল্লেখ্য, হামাস নেতৃত্বাধীন যোদ্ধাদের দক্ষিণ ইসরায়েলে আক্রমণের মাধ্যমে এই যুদ্ধের সূচনা হয়, যেখানে প্রায় ১,২০০ জন নিহত এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়েছিল। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, এরপর থেকে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে গাজায় এখন পর্যন্ত ৭৩,৩৭৫ জন নিহত হয়েছেন। যদিও এই সংখ্যায় বেসামরিক নাগরিক ও যোদ্ধাদের আলাদা করা হয়নি, তবুও জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থা এই তথ্যকে নির্ভরযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করে।

