জার্মানির হামবুর্গ শহরের একটি আদালত বুধবার কট্টরপন্থী গোষ্ঠী 'লাস্ট ডিফেন্স ওয়েভ'-এর সাতজন সদস্য এবং একজন সমর্থককে কারাদণ্ড প্রদান করেছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, অগ্নিসংযোগ, গুরুতর আঘাত এবং একটি সন্ত্রাসী সংগঠনের সদস্য বা সমর্থক হওয়ার মতো গুরুতর অপরাধের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
আদালতের রায়ে জানা গেছে, গোষ্ঠীটি আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসন এবং বামপন্থী স্থাপনায় অগ্নিসংযোগ ও বোমা হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করেছিল। এছাড়া, তারা তথাকথিত 'পেডো-হান্টিং'-এ লিপ্ত ছিল, যেখানে তারা নিজেদের বিবেচনায় পেডোফাইল বা শিশু নির্যাতনকারী সন্দেহে ব্যক্তিদের খুঁজে বের করত।
অভিযুক্তরা অপরাধের সময় ১৪ থেকে ২১ বছর বয়সী কিশোর ও তরুণ ছিল। জার্মান কিশোর অপরাধ আইনের আওতায় তাদের দেড় বছর থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জার্মান সংবাদ সংস্থা ডিপিএ-এর তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে কম বয়সী বিবাদীর দেড় বছরের কারাদণ্ড স্থগিত করা হয়েছে। তবে বুধবারের এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ রয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের অক্টোবরে ব্র্যান্ডেনবুর্গ রাজ্যের আল্টডোবার্ন এলাকার একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ভাগ্যক্রমে কেউ হতাহত হয়নি, যদিও ভবনটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। এছাড়াও, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে থুরিংগিয়া রাজ্যের শমোলিন শহরে একটি আশ্রয়প্রার্থী কেন্দ্রে অগ্নিসংযোগের ব্যর্থ চেষ্টা চালানো হয়েছিল। সেই সময় অপরাধীরা সেখানে স্বস্তিকা চিহ্ন এঁকে দিয়েছিল এবং 'বিদেশিরা বেরিয়ে যাও' স্লোগান লিখেছিল।
আদালতের নথি অনুযায়ী, ব্র্যান্ডেনবুর্গের সেনফেনবার্গে আরেকটি আশ্রয়প্রার্থী কেন্দ্রে অগ্নিসংযোগের পরিকল্পনা করেছিল গোষ্ঠীটির তিন সদস্য। তবে একটি রিপোর্টিং টিমের তথ্যের ভিত্তিতে সেই হামলাটি প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছিল।

