গায়ানায় একটি সরকারি ফেরিডুবির ঘটনায় ৭০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হওয়ার ঘটনায় ক্যাপ্টেন এবং দুইজন ক্রু সদস্যের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ দায়ের করেছে পুলিশ। ১৮ জুলাই রাজধানী জর্জটাউন থেকে যাত্রা করা ফেরিটি ভেনেজুয়েলার নিকটবর্তী উত্তর শহর পোর্ট কাইটুমাতে পৌঁছানোর আগেই আটলান্টিক মহাসাগরের পানিতে ডুবে যায়। দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশটির ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে ভয়াবহ সামুদ্রিক বিপর্যয়।
অভিযুক্তরা হলেন ৪০ বছর বয়সী ক্যাপ্টেন কেভিন প্রাইস, ৪২ বছর বয়সী চিফ মেট রন্ডেল ডোয়েন রবার্টস এবং ৩৩ বছর বয়সী কার্গো সুপারিনটেনডেন্ট ডেলন গ্র্যান্ডারসন। মঙ্গলবার সকালে তাদেরকে আদালতে হাজির করা হলেও কোনো আইনজীবীর উপস্থিতি ছিল না এবং তাদের কোনো জবানবন্দিও নেওয়া হয়নি।
প্রধানমন্ত্রী মার্ক ফিলিপস সোমবার রাতে পার্লামেন্টে জানিয়েছেন যে, যদিও ৭৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছিল, কিন্তু উদ্ধারকৃতদের মধ্যে একজন পরবর্তীতে মারা গেছেন। এখনো ৩০ জন যাত্রী নিখোঁজ রয়েছেন। কর্তৃপক্ষ ধারণা করছে, ফেরিটিতে মোট ১৭৯ জন যাত্রী ছিলেন। বর্তমানে জাহাজটি পানির নিচে ৫০ ফুট (১৫ মিটার) গভীরে রয়েছে এবং এটি উদ্ধার করার সম্ভাবনা নেই বলেই জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
এই বিপর্যয় নিয়ে পার্লামেন্টে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিরোধী দলীয় আইনপ্রণেতারা ডেস্কে আঘাত করে এবং হইচই করে ওয়ার্কস মিনিস্টার জুয়ান এডগিল এবং জুনিয়র মিনিস্টার ইন্দার পারসাদের পদত্যাগ দাবি করেন। তাদের অভিযোগ, এই বিপর্যয়ের জন্য মন্ত্রীরাই দায়ী।
এদিকে, ৮৭ বছর বয়সী এমভি বারিমার ডুবে যাওয়ার ঘটনা তদন্তের জন্য সরকার পাঁচ সদস্যের একটি কমিশন গঠন করেছে। এই কমিশনে আন্তর্জাতিক আইনি ও সামুদ্রিক বিশেষজ্ঞরা রয়েছেন। সরকার জানিয়েছে, পোর্ট কাইটুমাতে নতুন একটি পিয়ার নির্মাণের কাজ চলায় পুরোনো এই ফেরিটি চালু রাখা হয়েছিল। ভারত থেকে কেনা ১২.৭ মিলিয়ন ডলার মূল্যের নতুন একটি জাহাজ এমভি বারিমার স্থলাভিষিক্ত করার কথা ছিল।
কিছু জীবিত যাত্রী সাংবাদিকদের জানিয়েছেন যে, ফেরিটি লিক করছিল এবং যাত্রী ও মালামালে অতিরিক্ত বোঝাই ছিল। সরকার কমিশনকে এই অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছে। আগামী ৩ আগস্ট পশ্চিম এসিকেবো অঞ্চলে ফেরিটির ধ্বংসাবশেষের নিকটবর্তী একটি আদালতে পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

