রাজধানীর শাহবাগ থানায় সংবাদ সংগ্রহের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতির অন্তত ১০ জন সদস্য হামলার শিকার হয়েছিলেন গত ২৩ এপ্রিল। এই ঘটনার পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেয়নি। ঘটনার বিচারপ্রক্রিয়া কার্যত থমকে আছে কারণ ঘটনার তদন্তে গঠিত কমিটির প্রতিবেদন এখনো উপাচার্যের কাছে জমা দেওয়া হয়নি।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ইসরাফিল রতন দাবি করেছেন যে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত রয়েছে, তবে তা পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে। কেন প্রতিবেদন জমা দেওয়া হচ্ছে না—এমন প্রশ্নে তিনি ‘চাপ’ থাকার কথা উল্লেখ করেছেন। প্রক্টরের ভাষ্যমতে, একদিকে দ্রুত বিচার চাওয়ার চাপ রয়েছে, অন্যদিকে ঘটনার সূত্রপাত উদঘাটন না করা পর্যন্ত বিচার না করার দাবি তুলছে অন্যপক্ষ। তিনি বিষয়টি ‘মিনিমাইজ’ করার চেষ্টা চলছে বলে মন্তব্য করেন। তবে প্রক্টর কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা জানাতে পারেননি এবং সাংবাদিক সমিতি কেন প্রথাগত আইনের আশ্রয় নেয়নি তা নিয়ে পাল্টা প্রশ্ন তোলেন।
অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলাম প্রশাসনের ওপর কোনো ধরনের চাপ থাকার কথা স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেছেন। তিনি জানান, তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক প্রক্টর এখনো প্রতিবেদন জমা দেননি, যার ফলে প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছে না। একই ঘটনায় প্রশাসনের দুই শীর্ষ কর্মকর্তার এই ভিন্নমুখী বক্তব্য বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর তারা শাহবাগ থানায় মামলা করার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু থানার কর্মকর্তারা মামলা গ্রহণ করেননি। সেই সময় শাহবাগ থানার ওসি এবং ডিসি আত্মগোপনে ছিলেন বলে তারা জানান। পাঁচ মাস পরেও তদন্তের এই ধীরগতি নিয়ে সাংবাদিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

