নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে অবস্থিত একটি বিশেষ আদালতে যুদ্ধাপরাধের মামলার রায় ঘোষণার মাত্র কয়েক দিন আগে কসোভোর সাবেক প্রেসিডেন্ট হাশিম থাচি ও অন্য তিন সাবেক যোদ্ধার সমর্থনে রাজধানী প্রিস্টিনায় হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন। আগামী বুধবারে এই মামলার রায় ঘোষণা করার কথা রয়েছে।
সাবেক প্রেসিডেন্ট হাশিম থাচি এবং কসোভো লিবারেশন আর্মির (কেএলএ) অন্য তিন সাবেক কমান্ডার— কাদরি ভেসেলি, রেজেপ সেলিমি ও জাকুপ ক্রাসনিকির বিরুদ্ধে ১৯৯৮-১৯৯৯ সালের সার্বিয়ার বিরুদ্ধে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে হত্যা, নির্যাতন ও বেসামরিক নাগরিকদের ওপর নিপীড়নের ১০টি অভিযোগ রয়েছে। প্রসিকিউটররা তাঁদের সর্বোচ্চ ৪৫ বছরের কারাদণ্ডের দাবি জানিয়েছেন। তবে অভিযুক্ত চারজনই তাঁদের বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। চলতি বছরের শুরুতে আন্তর্জাতিক বিচারকদের উদ্দেশ্যে দেওয়া এক সমাপনী বিবৃতিতে হাশিম থাচি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেছিলেন, "একমাত্র ন্যায়সঙ্গত সিদ্ধান্ত হবে আমার সম্পূর্ণ খালাস।"
বিক্ষোভকারীরা প্রিস্টিনার কেন্দ্রীয় স্কয়ারে জড়ো হয়ে লাল ও কালো রঙের আলবেনীয় পতাকা প্রদর্শন করেন। পুরো শহরজুড়ে এই চার সাবেক যোদ্ধার ছবি সংবলিত পোস্টার লাগানো হয়েছে এবং দ্য হেগের আদালতের রায় ঘোষণার সময় গণনা করার জন্য একটি বড় ডিজিটাল ঘড়ি বসানো হয়েছে। সমাবেশে একটি বিশাল ব্যানারে লেখা ছিল, "জনগণের নামে, তাঁদের নির্দোষ ঘোষণা করুন।"
দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জিলান শহর থেকে বাসে করে প্রিস্টিনায় আসা ফাদিল গাসি নামের এক বিক্ষোভকারী বলেন, "আমরা তাঁদের জন্য আজ এখানে এসে অন্তত এইটুকু তো করতেই পারি।" সমাবেশে রাজনৈতিক নেতা বেদ্রি হামজা বলেন, "আমরা ইতিহাস পুনর্লিখন করতে দেব না।" তিনি আরও যোগ করেন, "একটি ন্যায়সঙ্গত সিদ্ধান্ত বিচারকে শক্তিশালী করে, আর অন্যায় সিদ্ধান্ত একে ধ্বংস করে। কসোভো অপেক্ষা করছে, কসোভো দেখছে এবং কসোভো দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছে।"
কসোভোর কর্মকর্তারা এই বিচার প্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে সমালোচনা করেছেন। তাঁদের মতে, সার্বিয়ার রাজনৈতিক ও সামরিক নেতাদের যুদ্ধাপরাধের বিচারের সাথে একটি কৃত্রিম ভারসাম্য তৈরির জন্য এই আদালত গঠন করা হয়েছে। প্রতিবেশি আলবেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী এডি রামা ফেসবুকে এক পোস্টে বলেন, "এই প্রহসন এখন শেষ দিনগুলোতে রয়েছে।" তিনি "মুক্তিকামীদের মুক্তি" দাবি করেন। ২০২০ সালে হাশিম থাচি তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের মুখোমুখি হতে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন এবং তখন থেকেই এই চারজন নেদারল্যান্ডসের কসোভো স্পেশালিস্ট চেম্বার্সের হেফাজতে রয়েছেন।
১৯৯৮-৯৯ সালের কসোভো যুদ্ধে প্রায় ১৩,০০০ মানুষ নিহত হন, যাদের বেশিরভাগই ছিলেন জাতিগত আলবেনীয়। যুদ্ধের সময় প্রায় ১০ লাখ আলবেনীয় কসোভোবাসীকে তাঁদের বাড়িঘর থেকে বিতাড়িত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে সার্বীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে ন্যাটোর ৭৮ দিনের বিমান হামলার মুখে সার্বিয়া সেখান থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়। ২০০৮ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও বেশিরভাগ ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশের সমর্থনে কসোভো সার্বিয়া থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করে। তবে রাশিয়া ও চীনের সমর্থনে বেলগ্রেড এখনও কসোভোর স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দেয়নি, যা বলকান অঞ্চলে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার কারণ হয়ে রয়েছে।

