পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত চ্যালেঞ্জিং ত্রিদেশীয় সিরিজ শেষে অধিনায়ক হ্যারি ব্রুকের নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন ইংল্যান্ডের হোয়াইট-বল কোচ ব্র্যান্ডন ম্যাককালাম। টুর্নামেন্টের শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে কঠিন লড়াইতে পাওয়া সান্ত্বনার জয় দিয়ে প্রচারণা শেষ করার পর তিনি জানান, এই টুর্নামেন্টের কঠিন অভিজ্ঞতা ব্রুককে অধিনায়ক হিসেবে অনেক বেশি পরিপক্ব ও সুদৃঢ় করে তুলবে।
লাহোরে নিজেদের বিদায়ী ম্যাচে বেন ডাকেটের ১৬৭ রানের উপর ভর করে জয়ের জন্য ৩৮৭ রানের বিশাল লক্ষ্য বেঁধে দিয়েছিল ইংল্যান্ড। তবে রান তাড়া করতে নেমে ৪০ ওভার শেষে ৫ উইকেটে ৩০০ রান তুলে ফেলে শ্রীলঙ্কা। ফলে টানা চতুর্থ পরাজয় এবং টানা তৃতীয় ম্যাচে জয়ের সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করার শঙ্কায় পড়ে ইংলিশরা। এর আগের ম্যাচেই রাওয়ালপিন্ডিতে ৪৩০ রান তাড়া করে ইতিহাস গড়েছিল লঙ্কানরা, যার মূল নায়ক ছিলেন পবন রথনায়েকে। লাহোরেও একই ধরনের জয়ের পথেই ছিল দলটি।
তবে সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোর মতো এবার শেষ মুহূর্তে এসে নিয়ন্ত্রণ হারায়নি ইংল্যান্ড। বিশেষ করে লিয়াম ডসনের ১০ ওভারে ৪৯ রানে ৪ উইকেটের দুর্দান্ত বোলিংয়ের সৌজন্যে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ব্রেকথ্রু অর্জন করে তারা। স্কাই স্পোর্টসকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ম্যাককালাম বলেন, ধারাবাহিক ধাক্কার পর ছেলেরা যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে তা সত্যিই প্রশংসনীয়। অনভিজ্ঞ একটি ওয়ানডে দল নিয়ে এ ধরনের পরিস্থিতিতে খেলতে আসাটাই ছিল তাদের খেলোয়াড়দের অভিজ্ঞতা অর্জনের অন্যতম মাধ্যম।
ম্যাচের কঠিন মুহূর্তে ব্রুকের শান্ত আচরণের কথা উল্লেখ করে ইংলিশ কোচ বলেন, ব্রুক হলেন তার দেখা অন্যতম সেরা কৌশলী অধিনায়ক। সে অত্যন্ত তীক্ষ্ণ মস্তিষ্কের অধিকারী এবং ড্রেসিংরুমের প্রতিটি খেলোয়াড় তাকে সম্মান করে। সে একা সিদ্ধান্ত না নিয়ে দলগত আলোচনার মাধ্যমে গতিশীল পরিস্থিতিতে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছে, যা অধিনায়ক হিসেবে তার বৃদ্ধিকে বহুলাংশে ত্বরান্বিত করবে।
গত সোমবারে পাকিস্তানের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কা জয় পাওয়ায় গাণিতিকভাবেই টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলার দৌড় থেকে ছিটকে গিয়েছিল ইংল্যান্ড। এতে হতাশা প্রকাশ করলেও ম্যাককালাম জানান, আগামী ১২ মাস পর দক্ষিণ আফ্রিকায় বসতে যাওয়া ৫০ ওভারের বিশ্বকাপে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করাই তাদের মূল লক্ষ্য। টুর্নামেন্ট শেষ করে চলতি সপ্তাহের শেষের দিকেই অস্ট্রেলিয়া সফরে যাচ্ছে দল, যেখানে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ এবং পরবর্তীতে তিনটি ওয়ানডে ম্যাচ খেলবে তারা।
সামগ্রিক বিচারে টুর্নামেন্টে ইংল্যান্ডের যৌথ পারফরম্যান্স কিছুটা হতাশাজনক হলেও কিছু ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স ছিল আশাব্যঞ্জক। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ব্রুকের ক্যারিয়ার সেরা ২০২ রান, শেষ দুই ম্যাচে ডাকেটের টানা সেঞ্চুরি এবং টপ অর্ডারে টম ব্যান্টনের তিনটি অর্ধশতক ছিল ইতিবাচক দিক। এর বাইরে সিনিয়র স্পিনার আদিল রশিদকে বাদ দিয়ে একাদশে সুযোগ পাওয়া লিয়াম ডসন ২১.৪২ গড়ে ৭টি উইকেট নিয়ে নজর কেড়েছেন।
রশিদকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ম্যাককালাম জানান, টুর্নামেন্ট জুড়ে বাঁহাতি স্পিন বেশ সফল ছিল, যার প্রমাণ পাকিস্তানের আরাফাত মিনহাজ ১৬.১১ গড়ে সর্বোচ্চ ৯টি উইকেট নিয়েছেন। তিনটি দলের কারোরই লেগস্পিনাররা খুব বেশি প্রভাব ফেলতে পারেননি। তাই পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নিতেই ডসনকে বেছে নেওয়া হয়েছিল এবং কন্ডিশন রশিদের বিপক্ষে গেছে বলে জানান কোচ।

