মিশিগান স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান ফুটবল কোচ মেল টাকার তার বিরুদ্ধে ওঠা যৌন হেনস্তার অভিযোগকারী নারীর কাছে গোপনে ক্ষমা চেয়েছিলেন। ইউএসএ টুডের হাতে আসা গোপন সমঝোতা প্রস্তাবের নথিতে এমন তথ্য উঠে এসেছে। অভিযোগকারী ব্রেন্ডা ট্রেসি একজন ধর্ষণ থেকে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তি এবং পাবলিক স্পিকার, যাকে টাকার তার ফুটবল দলকে যৌন হেনস্তা সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য নিয়োগ করেছিলেন।
টাকার অভিযোগ করেছিলেন যে ট্রেসি তার বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণা চালিয়েছেন, কিন্তু নথিতে দেখা যায় তার আইনজীবী জেনিফার বেলভিয়াল ২০২৩ সালের ১৫ মার্চ ট্রেসির আইনজীবীকে একটি চিঠি লিখেছিলেন। বেলভিয়াল তার তদন্তের সাক্ষাৎকারটি দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে পিছিয়ে দিয়েছিলেন এবং এই সময়ের মধ্যে তিনি ১৩ পৃষ্ঠার একটি আইনি নথি জমা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের এখতিয়ার নেই বলে তদন্ত বন্ধের আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয় তাদের তদন্ত চালিয়ে যায়।
টাকার ট্রেসিকে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করা এবং ২৫,০০০ ডলার প্রদানের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। বিনিময়ে ট্রেসিকে তার অভিযোগ তুলে নিতে হতো এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে বলতে হতো যে বিষয়টি একটি ভুল বোঝাবুঝি ছিল। তবে ট্রেসির আইনজীবী কারেন ট্রুসকভস্কি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।
২০২৩ সালের অক্টোবরে ট্রেসি ইউএসএ টুডের মাধ্যমে প্রকাশ্যে অভিযোগ তোলার পর মিশিগান স্টেট বিশ্ববিদ্যালয় টাকারকে বরখাস্ত করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্তে টাকারকে যৌন হেনস্তা ও শোষণের দায়ে দায়ী করা হয়। এরপর ট্রেসি এবং তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো টাকার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করে। যদিও আদালত পরবর্তীকালে সেগুলো খারিজ করে দেয় এবং জানুয়ারি মাসে একজন বিচারক ট্রেসি ও তার আইনজীবীকে টাকার আইনি ফি বাবদ ১,৮০,০০০ ডলার পর্যন্ত প্রদানের নির্দেশ দেন।
২০২২ সালে ইউএস সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয় যে টাইটেল নাইন এবং অন্যান্য নাগরিক অধিকার মামলায় জয়ী বাদীরা মানসিক যন্ত্রণার জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারবেন না। এই রায়ের পর থেকে শিক্ষা দপ্তরের অফিস ফর সিভিল রাইটসে টাইটেল নাইন অভিযোগের সংখ্যা অর্ধেকেরও বেশি কমে গেছে। এদিকে, ২২ মার্চ ২০২৩-এ তার তদন্তমূলক সাক্ষাৎকারে টাকার দাবি করেছিলেন যে তাদের মধ্যে ফোনে যৌন সম্পর্ক ছিল সম্মতিসূচক।
ট্রেসি ইউএসএ টুডেকে বলেন, টাকার যে তার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন এবং টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন, তা প্রমাণ করে যে তিনি তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করেননি। বর্তমানে ইনঘাম কাউন্টি সার্কিট কোর্টে ২৮ অক্টোবর নির্ধারিত শুনানিতে ট্রেসি ও তার আইনজীবীকে কত টাকা পরিশোধ করতে হবে তা নির্ধারণ করা হবে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে দায়ের করা মামলাসহ ৯,৪৯৩টি এবং ৪,৩০৭টি নথির প্রেক্ষাপটে আইনি জটিলতা অব্যাহত রয়েছে।

