নিউ মেক্সিকোর একটি আদালত মেটাকে ৫৬৭ মিলিয়ন ডলার জরিমানা করার নির্দেশ দিয়েছে। তরুণ ব্যবহারকারীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতির জন্য কোম্পানিটিকে দায়ী করে এই রায় দেওয়া হয়েছে। সান্তা ফে-র বিচারক ব্রায়ান বিডশেইড বৃহস্পতিবার এই আদেশ দেন। আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, মেটা নিউ মেক্সিকোতে একটি জনউপদ্রব বা পাবলিক নুইসেন্স তৈরি করেছে। রাজ্যের ডেমোক্র্যাট অ্যাটর্নি জেনারেল রাউল টোরেজ এই মামলাটি করেছিলেন।
অ্যাটর্নি জেনারেল টোরেজের অভিযোগ ছিল, মেটা তাদের পণ্যগুলোকে এমনভাবে ডিজাইন করেছে যা তরুণ ব্যবহারকারীদের আসক্ত করে তোলে। এছাড়া প্ল্যাটফর্মে শিশুদের যৌন শোষণ থেকে রক্ষা করতে কোম্পানিটি ব্যর্থ হয়েছে বলেও অভিযোগ আনা হয়। বিচারক মেটাকে আগামী পাঁচ বছরের জন্য বেশ কিছু নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলেছেন। এর মধ্যে রয়েছে কিশোর-কিশোরীদের ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারের মাসিক সময়সীমা নির্ধারণ, নোটিফিকেশনের ওপর নিয়ন্ত্রণ, অপ্রাপ্তবয়স্কদের সঙ্গে প্রাপ্তবয়স্কদের যোগাযোগে কড়াকড়ি এবং এআই চ্যাটবট ব্যবহারের ক্ষেত্রে সুরক্ষা নিশ্চিত করা। এছাড়া শিশুদের যৌন নির্যাতনের রিপোর্টগুলো আরও গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালত মেটাকে ১৩ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্ট এবং সেসব অ্যাকাউন্ট থেকে সংগৃহীত ব্যক্তিগত তথ্য মুছে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে। একইসঙ্গে নিউ মেক্সিকোর কিশোর-কিশোরীদের অ্যাকাউন্টগুলো ডিফল্টভাবে প্রাইভেট রাখার বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে।
মেটা জানিয়েছে, তারা এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে। কোম্পানির পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, অনলাইনে কিশোর-কিশোরীদের সুরক্ষার ক্ষেত্রে তাদের রেকর্ড নিয়ে তারা আত্মবিশ্বাসী এবং তারা মনে করে এই মামলায় তথ্য বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এই মামলার দ্বিতীয় পর্যায়ে এই রায় দেওয়া হলো। এর আগে মার্চ মাসে একটি জুরি মেটাকে রাজ্যের ভোক্তা সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে ৩৭৫ মিলিয়ন ডলার জরিমানার নির্দেশ দিয়েছিল। বর্তমান বিচারক বিডশেইড তিন সপ্তাহ ধরে শুনানির পর এই রায় দিয়েছেন, যেখানে মেটার প্ল্যাটফর্মগুলো জনউপদ্রব সৃষ্টি করেছে কি না তা খতিয়ে দেখা হয়েছে। এই মামলাটি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য, মিউনিসিপ্যালিটি এবং স্কুল ডিস্ট্রিক্টের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যারা একই ধরনের দাবি নিয়ে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।

