ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাবেক আইনজীবী এবং দীর্ঘদিনের সহযোগী মাইকেল কোহেন এখন ‘পুনর্মিলন’-এর কথা বলছেন। এক সময়ের তিক্ত শত্রু ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্কের নাটকীয় মোড় নিয়ে কোহেন জানিয়েছেন, তারা একে অপরকে ক্ষমা করে দিয়েছেন।
আগস্টের ২০ তারিখে কোহেন তার রেডিও শো-এর জন্য ট্রাম্পের সাক্ষাৎকার নেন। এই সাক্ষাৎকারটি পরে প্রচারের কথা রয়েছে। সাবস্ট্যাক-এ লেখা এক পোস্টে কোহেন জানিয়েছেন যে, কিবোর্ডের আড়াল থেকে পাথর ছোড়ার চেয়ে কোনো বিভেদ দূর করে হাত বাড়িয়ে দেওয়া অনেক বেশি সাহসের কাজ।
কোহেন প্রশ্ন রাখেন, যে দুই ব্যক্তি বছরের পর বছর ধরে প্রকাশ্য যুদ্ধে লিপ্ত ছিলেন এবং একে অপরের বিরুদ্ধে আইনি ও রাজনৈতিক তীর ছুড়েছেন, তারা কীভাবে আবার একসঙ্গে বসতে পারেন? তার মতে, এর উত্তরটি যতটা জটিল মনে হয়, আসলে ততটা নয়। তিনি বলেন, “আমরা ক্ষমা করেছি।”
২০১৬ সালে ট্রাম্পের জয়ের পর থেকেই তাদের দীর্ঘদিনের সম্পর্কে ফাটল ধরেছিল। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী থেকে কোহেন পরে তার ঘোর বিরোধী হয়ে ওঠেন এবং আদালতে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেন। ২০১৮ সালে কোহেনকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তিনি প্লেবয় মডেল কারেন ম্যাকডুগাল এবং প্রাপ্তবয়স্ক ছবির তারকা স্টর্মি ড্যানিয়েলসকে ট্রাম্পের ‘নির্দেশে’ অর্থ প্রদানের বিষয়টি স্বীকার করেছিলেন। তৎকালীন সময়ে কোহেন বলেছিলেন, “আমার নিজস্ব দুর্বলতা ছিল সেই ব্যক্তির প্রতি অন্ধ আনুগত্য, যা আমাকে অন্ধকারের পথে ঠেলে দিয়েছে। বারবার আমি মনে করেছি তার নোংরা কাজগুলো আড়াল করা আমার দায়িত্ব।”
কারাগারে যাওয়ার আগে কোহেন কংগ্রেসের সামনে ট্রাম্পকে ‘বর্ণবাদী’, ‘প্রতারক’ এবং ‘ধাপ্পাবাজ’ বলে অভিহিত করেছিলেন। পরবর্তীতে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ব্যবসায়িক রেকর্ড জালিয়াতির মামলায়ও কোহেন সাক্ষ্য দেন। তার ২০২৪ সালের সাক্ষ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প ড্যানিয়েলসকে ১ লাখ ৩০ হাজার ডলার দেওয়ার বিষয়টি অনুমোদন করেছিলেন। ট্রাম্প ওই মামলায় ৩৪টি অপরাধমূলক অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। তবে দ্বিতীয়বার নির্বাচিত হওয়ার পর ট্রাম্পের সাজায় কোনো কারাদণ্ড বা জরিমানা ছিল না।
ট্রাম্পও বারবার কোহেনকে ‘মিথ্যাবাদী’ ও ‘স্লেজব্যাগ’ বলে আক্রমণ করেছেন। তবে পর্দার আড়ালে সম্পর্ক উন্নয়নের এই প্রচেষ্টা অনেক দিন ধরেই চলছিল। কোহেন জানিয়েছেন, গত এক বছরে তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে তিনবার দেখা করেছেন।
সাবস্ট্যাক পোস্টে কোহেন লিখেছেন, “এক পর্যায়ে আমাদের দুজনকেই একটি কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে: অতীত কি ভবিষ্যৎকে নিয়ন্ত্রণ করবে? আমার জন্য, উত্তরটি ছিল না।” তিনি আরও যোগ করেন, “লোয়ালিটি বা আনুগত্য মানে এই নয় যে কেউ আপনাকে আঘাত করেনি তা ভান করা। ক্ষমা মানে এই নয় যে নিজের নীতি বিসর্জন দেওয়া। পুনর্মিলন মানে এই নয় যে ইতিহাস নতুন করে লেখা। এর অর্থ হলো, আপনার ইতিহাস যেন আপনার সবচেয়ে খারাপ অধ্যায় দিয়ে শেষ না হয়।”
কোহেন জানিয়েছেন, ২০১৮ সালের সাজা থেকে রাষ্ট্রপতির ক্ষমার আবেদন করবেন কি না তা তিনি এখনও নিশ্চিত নন। তিনি পলিটিকোকে বলেন, “আমরা দেখব। আমি কি ভবিষ্যতে এমন অনুরোধ করব? আমি জানি না। হতেও পারে, আবার নাও হতে পারে।”
