জাপানের ইয়াওয়াতা সিটির মেয়র শোকো কাওয়াতা টাইম ম্যাগাজিনের ১০০ জন প্রভাবশালী উঠতি তারকার তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন। গত ১৫ সেপ্টেম্বর প্রথম সন্তানের জন্ম দেওয়ার কয়েক সপ্তাহ পরই তিনি এই স্বীকৃতি পেলেন। ৩৬ বছর বয়সী এই নারী মেয়র মাতৃত্বকালীন ছুটিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে জাপানে জাতীয় পর্যায়ে এক বড় বিতর্কের জন্ম দিয়েছিলেন।
জাপান বর্তমানে নিম্ন জন্মহারের সমস্যায় ভুগছে। এমন পরিস্থিতিতে কাওয়াতার মাতৃত্বকালীন ছুটির সিদ্ধান্ত দেশজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই তার পক্ষে দাঁড়িয়ে বলেছেন, মাতৃত্বকালীন দায়িত্ব পালন করা কঠিন এবং কাওয়াতা নিজের সাধ্যমতো চেষ্টা করছেন। তাদের মতে, জাপানি সমাজ গর্ভাবস্থার কথা মাথায় রেখে কোনো ব্যবস্থা তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছে। কেউ কেউ আবার তার এই সিদ্ধান্তকে পরিবারের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার এক চমৎকার উদাহরণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যা ভবিষ্যতে অন্য নারীদের রাজনীতিতে আসার পথ সহজ করবে।
তবে সমালোচকরা তার এই সিদ্ধান্তকে 'দায়িত্বজ্ঞানহীন' বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাদের মতে, কোনো শীর্ষ কর্মকর্তা যদি দীর্ঘমেয়াদী ছুটিতে যেতে চান, তবে তার পদত্যাগ করা উচিত। এমনকি গর্ভাবস্থার পরিকল্পনা নেওয়ার বিষয়টি দায়িত্ব নেওয়ার আগেই করা উচিত ছিল বলেও দাবি তুলেছেন কেউ কেউ। এছাড়া মাতৃত্বকালীন ছুটিতে থাকাকালীন বেতন কর্তনের দাবিও উঠেছিল।
সন্তান জন্মের আগে বিবিসির সাথে এক সাক্ষাৎকারে কাওয়াতা সব সমালোচনা উড়িয়ে দিয়ে বলেছিলেন, তিনি নিজের কাজ উপভোগ করেন এবং সন্তান নেওয়ার ও পরিবার শুরু করার এখনই উপযুক্ত সময় বলে মনে করেন। তিনি আরও যোগ করেন, যদি মাতৃত্বকালীন ছুটিতে থাকা কোনো রাজনীতিবিদকে সমালোচনা করা হয়, তবে এর মানে দাঁড়ায় ২০ থেকে ৪০ বছর বয়সী নারীদের, যারা গর্ভবতী হওয়ার সক্ষমতা রাখেন, তাদের সরকারি দায়িত্ব থেকে কার্যত দূরে রাখা হচ্ছে।
জাপানে সিটি কর্পোরেশনের কর্মীদের জন্য মাতৃত্বকালীন ছুটির ব্যবস্থা থাকলেও স্থানীয় নির্বাচিত প্রতিনিধিদের জন্য কোনো আইনি কাঠামো নেই। এ কারণে কাওয়াতা তার অফিসের সাথে মিলে একটি পরিকল্পনা তৈরি করেন। তিনি ১৬ সপ্তাহের জন্য ডেপুটি মেয়র শিগেতো নোসের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন এবং সম্ভব হলে দূর থেকে কাজ চালিয়ে যান।
গত ১৫ সেপ্টেম্বর কন্যাসন্তানের জন্ম দেওয়ার পর কাওয়াতা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ নিজের এবং নবজাতকের ছবি পোস্ট করেন। যারা তাকে সমর্থন দিয়েছেন তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, অভিভাবক হওয়ার অর্থ তিনি এখন নিজে বুঝতে পারছেন এবং এই অভিজ্ঞতা থেকে তিনি জাতীয় পর্যায়ে সামাজিক নীতিগুলো নিয়ে কাজ করার লক্ষ্য স্থির করেছেন। তিনি বলেন, বাবা-মা এবং শিশুদের সামনে থাকা অসংখ্য চ্যালেঞ্জ নিয়ে তিনি তাদের মতোই একজন হিসেবে কাজ করতে চান, যাতে সবাই মিলে একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা যায়।

