ননকুলুলেকো ম্লাবা এবং কেশভ মহারাজ দুজনেই ডারবানের ডলফিনস দলের হয়ে খেলেন। অতীতে তারা বাঁহাতি সিমার হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে তারা শীর্ষ পর্যায়ের বাঁহাতি অর্থোডক্স স্পিনার। তবে এই মিলের বাইরে তাদের ক্যারিয়ার ও বোলিংয়ের ধরনে রয়েছে বিস্তর ফারাক।
বয়সে ম্লাবার চেয়ে ১০ বছরের বড় কেশভ মহারাজ ২০১৬ সালের নভেম্বরে পার্থের ডব্লিউএসিএ-তে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক করেন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ৬২টি টেস্ট খেলার পর তিনি ওয়ানডে দলে জায়গা পান। অন্যদিকে, ম্লাবা আটটি ওয়ানডে ও ১৮টি টি-টোয়েন্টি খেলার পর ২০২২ সালের জুন মাসে টনটনে তার প্রথম টেস্ট ম্যাচটি খেলেন।
মহারাজ মাঠের ভেতর প্রচণ্ড প্রতিযোগিতামূলক মনোভাবের পরিচয় দেন, যেখানে ম্লাবার হাসি সবসময়ই উজ্জ্বল। বোলিংয়ের ধরনে ম্লাবা মূলত ফ্লাইট ও ব্যাটারকে বিভ্রান্ত করার ওপর জোর দেন, আর মহারাজের বোলিংয়ে থাকে গতির সূক্ষ্ম বৈচিত্র্য ও ফিল্ডিং সাজানোর কৌশল। মহারাজ মনে করেন, ম্লাবার মতো বোলারদের দলে থাকাটা একটি বড় শক্তি। তিনি বলেন, “আমরা দুজনেই বাঁহাতি অর্থোডক্স বোলার, কিন্তু আমাদের দক্ষতার ক্ষেত্র আলাদা। সবাই ভিন্নভাবে বোলিং করে, তাই একই দলে দুই বাঁহাতি স্পিনার অনায়াসেই খেলতে পারে।”
ম্লাবা দক্ষিণ আফ্রিকার নারী ক্রিকেটের পেশাদারিত্বের জন্য লড়াই করছেন। তার মতে, পুরুষদের মতো নারীদেরও নিজস্ব এসএ২০-এর মতো লিগ প্রয়োজন। তিনি বলেন, “ভারত, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ডের মতো দলগুলোর সাথে আমাদের যে ব্যবধান, তা ঘোচাতে নিজস্ব লিগ খুব জরুরি। বিশ্বকাপ ফাইনালে আমরা বারবার উঠে আসলেও ট্রফি জিততে পারি না, কারণ চাপের মুখে আমরা খেই হারিয়ে ফেলি। নিজস্ব লিগ খেললে সেই চাপ সামলানোর অভিজ্ঞতা বাড়বে।”
তবে গত সাত বছরে নারী ক্রিকেটে অনেক উন্নতি হয়েছে বলে তিনি জানান। আগে যেখানে স্কুল শিক্ষার্থীদের টিকিট দিয়ে মাঠে আনা হতো, এখন মানুষ নিজেরা টিকিট কিনে খেলা দেখতে আসে। ম্লাবা বল ঘোরানোর ক্ষেত্রে দেশের অন্যতম সেরা স্পিনার। তিনি জানান, বল ঘোরানোর বিষয়টি তিনি আলাদা করে চর্চা করেননি, এটি তার সহজাত। তার মূল মনোযোগ থাকে সঠিক লাইন ও লেংথের ওপর।
মহারাজ ও ম্লাবা একে অপরের সাথে নিয়মিত অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন। মহারাজ বলেন, “আমি যেমন তাকে সাহায্য করেছি, সেও আমাকে তার কৌশলগত চিন্তাভাবনা দিয়ে অনেক সাহায্য করেছে। আমরা একে অপরের থেকে শিখছি।” গত এপ্রিল মাসে ভারতের বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার টি-টোয়েন্টি সিরিজে মহারাজ নারী দলের পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছেন। এই অভিজ্ঞতা সম্পর্কে তিনি বলেন, “নারী দলের জ্ঞান ও সক্ষমতা অনেক সময় অবমূল্যায়ন করা হয়, কিন্তু তাদের সাথে কাজ করে আমি নিজেও নতুন অনেক কিছু শিখেছি।”

