নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় সোকোতো রাজ্যে একটি নৌকাডুবির ঘটনায় অন্তত ৪৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নৌকাটিতে ৭০ জনেরও বেশি যাত্রী ছিল, যাদের বেশিরভাগই শিশু। দুর্ঘটনাকবলিত নৌকাটি ধানক্ষেতে কাজ করা শ্রমিক ও খামারের মালিকদের নিয়ে যাতায়াত করছিল।
পুলিশের মুখপাত্র আহমাদ রুফাই বিবিসিকে জানিয়েছেন, গোরণির গোরাউ এলাকার কাছে ৪৬টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ১৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও এখনো ১৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন। এলাকাটি অত্যন্ত দুর্গম হওয়ায় উদ্ধারকারী দল ও নিরাপত্তা বাহিনীর সেখানে পৌঁছাতে বেগ পেতে হচ্ছে।
ঘটনার একজন প্রত্যক্ষদর্শী রয়টার্সকে জানান, তিনি ৫০টি মরদেহ দেখেছেন, যার অনেকগুলোই স্থানীয় একটি মসজিদের সামনে ম্যাট ও ঐতিহ্যবাহী কাপড়ে মোড়ানো ছিল। নিহতেরা ধান কাটার কাজ শেষে ফেরার পথে দুর্ঘটনার শিকার হন বলে ধারণা করা হচ্ছে। নাইজেরিয়ার জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থা (নেমা)-এর মুখপাত্র ইজিকিয়েল মানজো জানিয়েছেন, উদ্ধারকারী দল দুর্গম এই এলাকায় পৌঁছানোর জন্য কাজ করছে।
নাইজেরিয়ায় নৌকাডুবির ঘটনা প্রায়শই ঘটে থাকে। অতিরিক্ত যাত্রী বহন, নৌকার রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং নিরাপত্তা বিধি কঠোরভাবে প্রয়োগ না করার কারণে এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এর আগে গত মাসে জিগাওয়া রাজ্যে নৌকাডুবিতে পাঁচজন এবং জানুয়ারিতে জিগাওয়া থেকে ইয়োবে রাজ্যে যাওয়ার পথে নৌকাডুবিতে অন্তত ২৬ জন মারা যান। এছাড়া ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে নাইজার নদীতে নৌকাডুবিতে ৫৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল, যে নৌকাটিতে ২০০ জনেরও বেশি যাত্রী ছিল।
কর্তৃপক্ষ বারবার নিরাপদ নৌকা নিশ্চিত করা, লাইফ জ্যাকেটের ব্যবহার, নদীপথ খনন এবং নৌকার চালকদের প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্স দেওয়ার মতো সুপারিশ করে আসছে। তবে এসব পদক্ষেপের বেশিরভাগই পুরোপুরি বাস্তবায়িত বা কার্যকর হচ্ছে না। গ্রামীণ জনপদের কোটি কোটি মানুষের জন্য নদীপথই যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম, কারণ রাস্তাঘাট ও সেতুর অভাব এবং যাতায়াত ব্যবস্থার দুর্বলতা মানুষকে ঝুঁকি নিয়ে কাঠের নৌকায় যাতায়াতে বাধ্য করছে।

