সম্পর্কের শুরুতে প্যাম ও মাইকের শারীরিক আকর্ষণ ছিল অত্যন্ত তীব্র। কিন্তু বয়স বাড়ার সাথে সাথে জৈবিক পরিবর্তন ও বার্ধক্য তাদের যৌনজীবনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। গত দুই বছর ধরে তাদের মধ্যে কোনো শারীরিক সম্পর্ক নেই। মাইকের মতে, তার শারীরিক অক্ষমতাই এর প্রধান কারণ। এই পরিস্থিতি প্যামের মনে এক ধরনের হীনম্মন্যতা তৈরি করেছে, যার কারণে কখনো কখনো তিনি নিজেকে আর আকর্ষণীয় মনে করতে পারেন না।
প্যাম জানান, একটি হুক্কা বারে প্রথম দেখার পর মাইকের প্রতি তীব্র আকর্ষণ অনুভব করেছিলেন তিনি। তাদের সম্পর্কের ভিত্তি গড়ে উঠেছিল সেই আকর্ষণকে কেন্দ্র করে। যখন তাদের বয়স ৫০-এর শেষ বা ৬০-এর শুরুর দিকে ছিল, তখন তাদের শারীরিক সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত চমৎকার। একবার একটি পাহাড়ি ট্রেইলে হাঁটার সময় তাদের ঘনিষ্ঠতা দেখে এক তরুণ দম্পতি এসে প্রশংসা করেছিলেন। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে সমাজ বয়স্ক নারীদের যেভাবে যৌন আকাঙ্ক্ষাহীন হিসেবে তুলে ধরে, প্যামও নিজের অজান্তেই তা বিশ্বাস করতে শুরু করেন। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক কমে যেতে থাকে। প্রথমে চার দিন, তারপর দুই সপ্তাহ, ছয় মাস এবং অবশেষে দীর্ঘ দুই বছর ধরে তাদের মধ্যে কোনো ঘনিষ্ঠতা নেই। লজ্জার কারণে তারা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করাও বন্ধ করে দিয়েছিলেন।
শারীরিক সম্পর্কের অনুপস্থিতিতে তাদের দৈনন্দিন স্পর্শগুলোর অর্থ বদলে গেছে। প্যামের মতে, একসময় যৌনতা ছিল তাদের সম্পর্কের ফাটল জোড়া লাগানোর মাধ্যম। কোনো ঝগড়া হলে শারীরিক সম্পর্কের মাধ্যমে তারা তা ভুলে যেতেন। কিন্তু এখন সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে তাদের আরও বেশি পরিশ্রম করতে হচ্ছে। প্যাম মনে করেন, যৌনতা তাকে মানসিকভাবে নম্র ও চঞ্চল রাখত, যা এখন হারিয়ে গেছে। তিনি আবারও তার সেই পুরোনো রূপ ফিরে পেতে চান, যখন তিনি সুন্দর পোশাক পরে মাইকের সামনে নাচতেন।
অন্যদিকে মাইক জানান, ১১ বছর আগে যখন তাদের প্রথম পরিচয় হয়, তখন তিনি বিবাহবিচ্ছেদের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন এবং পাঁচ বছর ধরে একা ছিলেন। শুরুতে প্যামের বুদ্ধিদীপ্ত ও চঞ্চল স্বভাব তাকে আকৃষ্ট করেছিল এবং তারা দিনে কয়েকবার শারীরিক সম্পর্কে জড়াতেন। কিন্তু বর্তমানে মাইকের শারীরিক অক্ষমতা ও যৌন আকাঙ্ক্ষার অভাব তাদের দূরত্ব বাড়িয়ে দিয়েছে। মাইকের মতে, ভায়াগ্রা হয়তো সাময়িক শারীরিক সক্ষমতা এনে দিতে পারে, কিন্তু তা মনের ভেতরের আকাঙ্ক্ষা ফিরিয়ে আনতে পারে না। শেষবার শারীরিক সম্পর্কের সময় প্যামের কষ্ট হওয়ায় তিনি বুঝতে পারেন যে এটি আর আনন্দদায়ক নয়। এখন যেকোনো ঘনিষ্ঠতার জন্য আগে থেকে পরিকল্পনা করতে হয়, যা সম্পর্কের স্বাভাবিকতা নষ্ট করে।
শারীরিক সম্পর্কের অনুপস্থিতিতে তাদের মধ্যকার মানসিক ঘনিষ্ঠতাও হ্রাস পেয়েছে। মাইক মনে করেন, ঘনিষ্ঠতার অভাবে তাদের সম্পর্ক এখন আরও কঠিন হয়ে পড়েছে এবং তিনি প্রায়ই প্যামকে অসন্তুষ্ট করে ফেলেন। তবে আসন্ন ‘বার্নিং ম্যান’ উৎসবে অংশ নিয়ে তারা আবারও নিজেদের মধ্যে সেই পুরোনো টান ফিরিয়ে আনার আশা করছেন। প্যাম চান তার সেই আকর্ষণীয় রূপটি ধরে রাখতে, আর মাইক চান শারীরিক সম্পর্ক ছাড়াও অন্য কোনো উপায়ে একে অপরের কাছাকাছি আসার পথ খুঁজে নিতে।

